রাজনৈতিক দলগুলো শিশু অধিকার ইশতেহারে স্বাক্ষর, বিনিয়োগ এবং নীতি সংস্কারের অঙ্গীকার করে শিশু ও তরুণদের কর্মের আহ্বানে সাড়া দিল
১১ ডিসেম্বর ২০২৫
ইউনিসেফের সহযোগিতায় শিশু ও তরুণেরা শিশু অধিকার ইশতেহার প্রণয়ন করেছে। প্রতিটি শিশুর কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পরিমাপযোগ্য জাতীয় অঙ্গীকার আদায়ের ক্ষেত্রে ইশতেহারে আসন্ন নির্বাচনকে একটি চরম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
01 December 2025
ঢাকা, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫- দেশের শিশুদের জন্য এক ঐতিহাসিক ক্ষণে, রাজনৈতিক দলগুলো শিশু অধিকার ইশতেহারে স্বাক্ষর করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, শিশু ও তরুণদের জোরালো আহ্বানে সাড়া দিয়ে যারা এমন একটি ভবিষ্যতের দাবি জানিয়েছে যেখানে তাদের অধিকারগুলোর প্রতি আরও সম্মান দেখানো এবং সেগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
আজকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ১২টি রাজনৈতিক দল (আমার বাংলাদেশ পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণ ফোরাম, গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস, নাগরিক ঐক্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি) শিশু অধিকার ইশতেহারে স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে দলগুলো বাংলাদেশে শৈশবকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রণীত দশটি অগ্রাধিকারমূলক প্রতিশ্রুতি পূরণে পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের—যার মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশু, কিশোর-কিশোরী ও তরুণরা রয়েছে—সম্পৃক্ত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহু ধাপের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ইউ-রিপোর্ট এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এবং সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশ্য অঙ্গীকার নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সামনে তথ্য-উপাত্ত, প্রমাণ এবং খসড়া প্রতিশ্রুতিগুলো উপস্থাপনের আগে তা শিক্ষাবিদ, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন অংশীদারদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে।
ইশতেহারে এমন সব বাস্তবসম্মত লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে যা বাস্তবায়িত হলে দেশের সবচেয়ে জরুরি শিশু অধিকারের অগ্রাধিকারগুলো পূরণ হবে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর বেঁচে থাকা, শেখা ও সুরক্ষিত থাকার নিশ্চয়তা বিধানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যাবে। প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে: মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, পুষ্টি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে জোরদার করা; সহিংসতা, নিপীড়নমূলক চর্চা ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমমুক্ত নিরাপদ কমিউনিটি/সমাজ তৈরি করা; শিশুদারিদ্র্য মোকাবিলা করা; গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমন্বিত নেতৃত্ব ও নজরদারি নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি তৈরি করে এমন জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা। ইশতেহারে স্বাক্ষর করার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো এসব অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো তাদের নীতি ও নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্বাচিত হলে সুস্পষ্টভাবে এগুলো নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিটি প্রতিশ্রুতিই নির্ধারণ করা হয়েছে চূড়ান্তভাবে যাচাই-বাছাইকৃত জাতীয় তথ্যের ভিত্তিতে, এসব তথ্য বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ শিশু জনগোষ্ঠীর অধিকার ও কল্যাণ কোন কোন ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে তা তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “শিশুরা জোরের সঙ্গে ও স্পষ্টভাবে বলেছে যে, তাদের ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করতে পারে না। আজকের শিশু অধিকার ইশতেহারে স্বাক্ষর করাটা কথাকে কাজে রূপান্তর এবং কাজের মধ্য দিয়ে আশাবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রতিশ্রুতি। ইশতেহারে শিশুদের জন্য সুস্পষ্ট ও অর্জন করার মতো পরিবর্তনের পথ দেখানো হয়েছে, যা মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করবে এবং আগামী দিনে একটি আরও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। সর্বশেষ প্রাপ্ত উপাত্ত জরুরি ভিত্তিতে ও সুস্পষ্টভাবে আমাদের জানাচ্ছে, কোথায় শিশুরা পিছিয়ে পড়ছে। ইউনিসেফের সহায়তায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব বাংলাদেশে শিশুরা গুরুত্বপূর্ণ যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে সেগুলোর বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে, কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কোথায় বিনিয়োগ প্রয়োজন তা নিয়ে বিতর্ক করেছে। আজ তারা কোনো ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, প্রকাশ্যে স্বাক্ষর করছে এক নতুন যুগের ঘোষণা দিতে; শিশুদের জন্য এক সংস্কারকৃত কর্মসূচির প্রতি অঙ্গীকার জানাচ্ছে। অন্যান্য ইশতেহারের মতো নয়, এই প্রতিশ্রুতিগুলো তথ্য-প্রমাণ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ও সবচেয়ে কম শোনা হয় যাদের কথা সেই জনগোষ্ঠীর শিশুদের আহ্বানের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়েছে। আজকের এই স্বাক্ষর করাটা লাখ লাখ শিশুর জন্য একটি লাইফলাইন (বাঁচিয়ে রাখার পথ), যে শিশুদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিনিয়োগের বিষয়ে তারা যে সিদ্ধান্ত নেবে তার ওপর।”
এই ১০টি প্রতিশ্রুতি নির্ধারণ করা হয়েছে শিশু অধিকার বিষয়ক সনদের (সিআরসি) আলোকে। এগুলোতে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। এসব প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের শিশুদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে কাঠামোগত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে:
অগ্রাধিকার ১. শিশু সুরক্ষায় ঘাটতি দূর করা
গ্রাম ও শহর উভয় এলাকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থায় যে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে, সেটা কমিয়ে সমন্বিতভাবে সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করা। স্থানীয়ভাবে তৈরি বিশেষায়িত চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে শিশুর শীর্ণতা (wasting) সহ অপুষ্টিজনিত সমস্যা মোকাবিলা করা।
বাংলাদেশে শিশুর শীর্ণকায় হওয়ার হার ৯ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ হওয়া এবং মায়েদের গর্ভকালীন সেবা গ্রহণের নিম্ন হার (৪৬ শতাংশ) প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও পুষ্টি সেবার গুরুতর ঘাটতি তুলে ধরে, যেগুলো সরাসরি শিশুর বেঁচে থাকার জন্য হুমকি তৈরি করে।
অগ্রাধিকার ২. শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ (সুরক্ষা)
শিশুদের জন্য কমিউনিটিগুলোকে আরও নিরাপদ করতে হবে। এজন্য ইউএনসিআরসি (জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ) এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাল্যবিবাহ আইনে বিদ্যমান ব্যতিক্রমগুলো বাতিল করা, আইন প্রয়োগ এবং নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা নিরসনের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে।
শিশুশ্রম বেড়ে ৯ দশমিক ২ শতাংশ হওয়া, বাল্যবিবাহের অব্যাহত উচ্চ হার (৪৭ দশমিক ২ শতাংশ) এবং উদ্বেগজনক পর্যায়ে শিশুদের সহিংসতার শিকার হওয়ার হার (৮৬) বাংলাদেশের বিভিন্ন পরিবেশ শিশুদের কতটা অনিরাপদ তা উন্মোচন করেছে।
অগ্রাধিকার ৩. সব শিশুর জন্য মানসম্মত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা
এক বছরের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক মানসম্মত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সহ নয় বছরের বিনামূল্যে, মানসম্মত ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে; শিখন ঘাটতি দূর করতে হবে, শিশুদের মধ্যে ডিজিটাল শিক্ষায় বিদ্যমান ঘাটতি দূর করতে হবে এবং একে অপরকে শেখাতে পারে এমন দক্ষতা তৈরির কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ পড়তে পারে এবং মাত্র ২১ দশমিক ২ শতাংশ গণিতের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করেছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, শিক্ষার সংকট গভীরে এবং তা বিস্তৃত।
অগ্রাধিকার ৪. সব শিশুর জন্য সামাজিক সুরক্ষা
সবচেয়ে অরক্ষিত ০-৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য একটি শিশু অনুদান (Child Grant) প্রবর্তন করে দারিদ্র্য মোকাবিলা করতে হবে।
সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে বিদ্যমান বিচ্ছিন্নতা দূর করা, সামাজিক সুরক্ষার পরিধি ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি; এর মধ্যে রয়েছে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (মাদার অ্যান্ড চাইল্ড বেনিফিট কর্মসূচি) সম্প্রসারণ করে ২০ বছরের কম বয়সী সব কিশোরী মাকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ২০২৭ সালের মধ্যে মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা।
অগ্রাধিকার ৫. শিশুদের জন্য জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ
জলবায়ুজনিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত শিশুদের সুরক্ষা প্রদান করতে হবে। এজন্য শিশুদের নিরাপদ, জলবায়ু-সহনশীল এবং কম কার্বন নিঃসরণের স্কুল, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং দূষণ ও অতিরিক্ত গরমে না থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি শিশু জলবায়ুর অভিঘাত ও দুর্যোগের ঝুঁকিতে আছে। গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে একটি পরিবারের নিরাপদ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। জলবায়ু সংকট শিশু অধিকারের একটি সংকটও।
অগ্রাধিকার ৬. শিশুদের জন্য উন্নত পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সেবা
পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সংক্রান্ত সব কাজ একটি জবাবদিহিমূলক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একত্রিত করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন, পানি পরিশোধন এবং প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ পয়ঃনিষ্কাশন- এগুলোর সব কিছু ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকবে। এখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নজর দিতে হবে।
গৃহস্থালিতে ব্যবহৃত পানির নমুনায় উচ্চ মাত্রায় (৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ) ই. কোলাই দূষণ উন্নত পানি নিরাপত্তার জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরছে। তাছাড়া নিরাপদ ব্যবস্থাপনার আওতায় সরবরাহকৃত পানীয় জল পাওয়ার (মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ) এবং মৌলিক পয়ঃনিষ্কাশন (স্যানিটেশন) সেবা পাওয়ার (৭৩ শতাংশ) সীমিত সুযোগ প্রতিটি শিশুর জন্য, বিশেষ করে স্কুল ও স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রগুলোতে, নিরাপদ ওয়াশ সেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরছে।
অগ্রাধিকার ৭. বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর জন্য ভবিষ্যতে সুযোগ অবারিত করা
আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা জনগোষ্ঠী মানসম্মত সামাজিক সেবাগুলো পাচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনা করতে হবে। রোহিঙ্গা শিশু ও তরুণদের জন্য, নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদার সাথে তাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতির জন্য বহনযোগ্য দক্ষতা (Portable Skills) সরবরাহ করতে হবে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও যুবকদের জন্য: শিক্ষা সুরক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার স্বীকৃতি ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা; মানবিক সহায়তা ও শিশু সেবা বজায় রাখা; এবং আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতির জন্য দক্ষতা, জীবিকা ও কমিউনিটির স্থিতিশীলতায় বিনিয়োগ করা। পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য: স্বাস্থ্য, পুষ্টি, ওয়াশ এবং সুরক্ষা খাতে মানসম্মত শিক্ষা ও শিশু-কেন্দ্রিক সামাজিক সেবায় ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
অগ্রাধিকার ৮. বাংলাদেশে কোনো শিশু যেন অদৃশ্য না থাকে (জন্ম নিবন্ধন)
প্রতিটি শিশুর পরিচয় ও সব ধরনের সেবার সুযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে জন্ম নিবন্ধন পাওয়ার প্রক্রিয়া উন্নত করতে হবে।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মাত্র ৫৯ শতাংশ এখন নিবন্ধিত এবং ৪৭ শতাংশের জন্ম সনদ আছে। এর ফলে বাংলাদেশে লাখ লাখ শিশু এখনো সরকারি হিসেবের বাইরে রয়ে গেছে।
অগ্রাধিকার ৯. শিশুদের প্রয়োজনগুলোকে বিবেচনায় নেয় এমন বাজেট
সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং নিচের খাতগুলোর প্রতিটিতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে: শিক্ষা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা।
বাংলাদেশের সামাজিক খাতগুলোতে শিশুদের জন্য বর্তমান বিনিয়োগ বৈশ্বিক সুপারিশের তুলনায় কম- যেখানে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪-৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে কমপক্ষে ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তথ্যে দেখা যায় যে, শিশু সুরক্ষায় বিনিয়োগ অত্যন্ত লাভজনক- প্রতি ডলার বিনিয়োগে নয়গুণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যায়।
অগ্রাধিকার ১০. শিশু ও তরুণদের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জবাবদিহি
শিশু অধিকারের ওপর বার্ষিক স্কোরকার্ড তৈরি ও প্রকাশের মাধ্যমে প্রতি অর্থবছরের শুরুতে সংসদে উপরের প্রতিশ্রুতিগুলোর অগ্রগতি উপস্থাপন করতে হবে, বিশেষ করে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য তা করা প্রয়োজন। এতে শিশুর পরিস্থিতি, বিশেষ সবচেয়ে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা শিশুদের অগ্রগতি বিষয়ে স্বচ্ছ মনিটরিং/নজরদারি নিশ্চিত হবে।
একটি শিশু অধিকার স্কোরকার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক সংসদীয় প্রতিবেদনের ব্যবস্থা সবচেয়ে অরক্ষিত শিশুদের জন্য অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
এই ইশতেহার এক চরম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে, যা দেশে মানবসম্পদ উন্নয়নে অপরিহার্য মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলন চলাকালে তরুণদের জাতীয় নীতি ও শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহির শক্তিশালী আহ্বানের সাথে সমন্বিত করেছে।
ইউনিসেফ তার অংশীদারদের সাথে নিয়ে সব রাজনৈতিক দল এবং মূল অংশীজনদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে—আসন্ন নির্বাচনের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পর আগামী মাস ও বছরগুলোতে একটি আরও সমতাপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শিশু অধিকার ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলো তাদের দলীয় নীতি, অগ্রাধিকার এবং কর্মের আহ্বানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিফলিত করার জন্য ও শিশু অধিকার এগিয়ে নেওয়ার জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার জন্য।
সম্পাদকের জন্য নোটঃ
ছবি ডাউনলোড করুন এখানে।
গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ
মিগেল মাতেওস মুনোজ
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801713043478
ই-মেইল: mmateosmunoz@unicef.org
ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801817586096
ই-মেইল: fselim@unicef.org