২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের অঙ্গীকার করায় বাংলাদেশ সরকারকে ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ এর অভিনন্দন ।
১৫ জুন ২০২৬
লিসবনে অনুষ্ঠিত ৩৪তম আন্তর্জাতিক মিডিওয়াইফ সংঘের ত্রিবার্ষিক কংগ্রেসে দেশের মিডওয়াইফ কর্মশক্তি বৃদ্ধির জন্য ঘোষিত বৃহত্তম এই বিনিয়োগের ফলে ২৫,০০০-এরও বেশি নতুন মিডওয়াইফ পদ তৈরি হবে এবং এর ফলে মাতৃমৃত্যুর লক্ষ্যমাত্রা নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
ঢাকা, বাংলাদেশ
১৪ জুন ২০২৬
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ২৫,০০০ মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে লিসবনে অনুষ্ঠিত মিডওয়াইফ কংগ্রেসে বিশ্ব স্বাস্থ্য অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। গত ১৪ জুন আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ সংঘের (আইসিএম) ৩৪তম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং ইউএনএফপিএ-এর নির্বাহী পরিচালক ডিয়েন কেইটা বাংলাদেশের মিডওয়াইফ কর্মশক্তিতে স্মরনকালের সবচেয়ে বড় এই বিনিয়োগ অঙ্গীকারটির কথা ব্যক্ত করেন।
কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, ইউএনএফপিএ-এর নির্বাহী পরিচালক পেশাদার মিডওয়াইফ বাহিনী গঠনে বাংলাদেশকে একটি ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বৈশ্বিক মিডওয়াইফারি অ্যাক্সিলারেটরে নেতৃত্বদানকারী হাতেগোনা কয়েকটি সেরা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে উল্লেখ করেন। লিসবনে এই অঙ্গীকার ঘোষণা করে মিস কেইটা বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে মিডওয়াইফদের পেছনে বিনিয়োগ করা মানেই জীবন রক্ষায় বিনিয়োগ করা।” তিনি আরও বলেন, “এই যুগান্তকারী অঙ্গীকার একইসাথে একটি শক্তিশালী বার্তা, আর তা হল মাতৃমৃত্যু অনিবার্য নয়।”
এই অঙ্গীকারের মূল্য বছরে ৪,০০০ জীবন — অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য কারণে ৪০০০ নারী মারা যান। ইতোমধ্যে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের প্রতি ১,০০,০০০ জীবিত জন্মে ৫৭৪ জন মাতৃমৃত্যু থেকে কমিয়ে বর্তমানে ১৩৬ জনে নেমেছে। তবে এখনও ৩০ শতাংশ প্রসব বাড়িতেই হয় এবং দেশের ৬,২১৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে মাত্র ২,৫৫৭ জন মিডয়াওইফ কর্মরত আছেন।
অপরিহার্য যৌন, প্রজনন, মাতৃ, নবজাতক ও কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মিডওয়াইফরা প্রদান করতে পারেন। পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধ করতে পারেন। এর ফলে মিডওয়াইফরা প্রতি ১ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে ১৬ মার্কিন ডলার পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারেন।
লিসবনে প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ড. হায়দার এই অঙ্গীকারকে বাংলাদেশের প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে বৃহত্তর পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরেন, যা জটিলতা দেখা দেওয়ার আগেই মায়েদের সহায়তা করে এবং প্রতিটি শিশুর জন্য জীবনের একটি সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে মিডওয়াইফদের রেখে তিনি বলেন: “যখন আমরা মিডওয়াইফদের ক্ষমতায়ন করি, তখন আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন করি। যখন আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন করি, তখন আমরা পরিবারকে শক্তিশালী করি। আর যখন আমরা পরিবারকে শক্তিশালী করি, তখন আমরা জাতিকেও আরও শক্তিশালী করি।”
বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ-এর প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বলেন, “বাংলাদেশ মায়েদের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং এই সপ্তাহে লিসবনে তা রক্ষা করেছে এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। আমরা সরকারকে এমন একটি অঙ্গীকারের জন্য অভিনন্দন জানাই যা লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য সন্তান জন্মদানের অর্থ বদলে দেবে। বাংলাদেশের মিডওয়াইফসেবার যাত্রাপথে পাশে থাকতে পেরে ইউএনএফপিএ সম্মানিত বোধ করছে এবং আগামীতে আগত ২৫,০০০ মিডওয়াইফের প্রত্যেকের পাশে আমরা থাকব।”
আগামী চার বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেখানে দক্ষ সেবার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। ২৫,০০০ মিডওয়াইফ কর্মরত থাকায়, প্রতি ১,০০,০০০ জীবিত জন্মে ৭০টি নিচে মাতৃমৃত্যু নামিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, যা একসময় অকল্পনীয় ছিল, তা বাংলাদেশের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
সম্পাদকদের জন্য টীকা
বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি অ্যাক্সিলারেটরের একটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, যা মিডওয়াইফারি সেবার মডেলগুলোকে বিস্তৃত করার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। ৩৪তম আইসিএম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেস (লিসবন, ১৩-১৮ জুন ২০২৬) হলো বিশ্বের বৃহত্তম মিডওয়াইফ সমাবেশ। বাংলাদেশ সরকারের মিডওয়াইফারিসেবার কর্মসূচি ২০১০ সালে শুরু হয়, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৩,০০০ মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টির অঙ্গীকার করা হয়। তারপর থেকে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা এবং একটি সক্রিয় পেশাদার সমিতির ওপর ভিত্তি করে মিডওয়াইফারি সেবার একটি নিয়ন্ত্রিত পেশা গড়ে তুলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬২টি সরকারি এবং ১১০টি বেসরকারি মিডওয়াইফারি কলেজ রয়েছে, যেখানে সম্মিলিতভাবে প্রতি বছর ৫,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। ইউএনএফপিএ এই কর্মসূচিকে শুরু থেকেই সমর্থন করে আসছে।
Media contact
Vanes Pilav
Communications Officer, UNFPA Bangladesh
pilav@unfpa.org
Asma Akter
Media and Communication Officer
asma@unfpa.org