প্রেস রিলিজ

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগ

৩১ আগস্ট ২০২৬

ঢাকা, ২৭ আগস্ট ২০২৬ 

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং ইউএন উইমেন আজ ঢাকার ইউজিসি অডিটোরিয়ামে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ইউএন উইমেনের “Ending Sexual and Gender-Based Violence in Public Spaces, Workplaces and Tertiary Educational Settings in Bangladesh (ESGBV )” প্রকল্পের আওতায় এই অংশীদারিত্ব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কাজ করবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক ন্যাশনাল ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট ওমেন প্রিভ্যালেন্স সার্ভে  ২০২৪ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ১৬ শতাংশ গত এক বছরে প্রযুক্তি-সুবিধাভিত্তিক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার (Technology-Facilitated Gender-Based Violence) শিকার হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, পাঁচটি অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রতিনিধিরা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএন উইমেন এবং অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। তারা নিরাপদ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

এই সহযোগিতার আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং এআইইউবিতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা হবে।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ভয়, হয়রানি ও বৈষম্যের পরিবেশে প্রকৃত শিক্ষা ও উৎকর্ষতা অর্জন সম্ভব নয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ভয় ছাড়াই নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে, সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে এবং মুক্তভাবে নিজেদের মেধা প্রকাশ করতে পারে,” তিনি বলেন

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন এবং পলিটিক্যাল, ইকোনমিক, ট্রেড, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের প্রধান বাইবা জারিনা বলেন “আজকের এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণকারণ এটি নীতিমালা ও প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবে কাজে পরিণত করতেপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের এই বিশ্বাস দিতে সাহায্য করবে যে তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হবে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখান থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইউএন উইমেন বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং নারী ও  প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,“ তরুণী ও কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হয়রানি ও সহিংসতার ভয় ছাড়াই যাতে নারীরা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশ করতে পারে, সে জন্য নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব,” বলেছেন গীতাঞ্জলি সিং।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শ্রবণা দত্ত পরিচালিত এক আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য[TK1] এবং প্রতিনিধিগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইএসজিবিভি প্রকল্পের আওতায় ইউএন উইমেন ও এর অংশীদার আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে অভিযোগ কমিটি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অভিযোগ গ্রহণ ও রেফারেল ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হবে। এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে, যাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীরা ভয়মুক্তভাবে শিক্ষা, কাজ ও ক্যাম্পাস কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন টাস্ক টিমের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মেহেরুন নেছা তাসলিমা খাতুন; বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শওকত আলী; এআইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এবং প্রতিনিধি ফারহীন হাসান ও নাজিয়া ফারহানা; এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. শরীফা সুলতানা।

 

ইউএন উইমেনইউএন উইমেন হলো জাতিসংঘের জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে নিবেদিত সংস্থা। নারী ও কিশোরীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের বৈশ্বিক অগ্রদূত হিসেবে ইউএন উইমেন বিশ্বব্যাপী তাদের চাহিদা পূরণ এবং সমতার লক্ষ্যে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে কাজ করে।

বাংলাদেশে ইউএন উইমেন সরকারকে জেন্ডার সমতা ও নারীর মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করে। সংস্থাটি সরকার, সুশীল সমাজ, নারী অধিকার সংগঠন, যুবসমাজ, জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নিতে।

আরও জানতে ভিজিট করুন: https://asiapacific.unwomen.org/en/countries/bangladesh

ইএসজিবিভি প্রকল্প : Ending Sexual and Gender-Based Violence in Public Spaces, Workplaces and Tertiary Educational Settings in Bangladesh (ESGBV) প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জনপরিসর, কর্মক্ষেত্র এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্প নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য সহায়তা ও প্রতিকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।

 

গণমাধ্যমের জন্য যোগাযোগ

শারারাত ইসলাম; কমিউনিকেশন্স অ্যানালিষ্ট, ইউ এন উইমেন
ই-মেইল: shararat.islam@unwomen.org

এই উদ্যোগে জাতিসংঘের যে সকল সংস্থা যুক্ত

ইউএন উইমেন
জাতিসংঘ জেন্ডার-সমতা ও নারী ক্ষমতায়ন সত্তা

এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা যে টেকসই লক্ষ্যগুলোকে সমর্থন দিচ্ছি