প্রেস রিলিজ

জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের জন্য যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে: জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটি ২০২৪ সালের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে।

১৫ মে ২০২৫

ঢাকা, ১৫ মে ২০২৫

ফটো: © UNRCO

বাংলাদেশ সরকার এবং জাতিসংঘ কান্ট্রি টিম (UNCT) আজ জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) দ্বিবার্ষিক বৈঠকে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামোর (ইউএনএসডিসিএফ) (UN Sustainable Development Cooperation Framework)বাস্তবায়ন মূল্যায়ন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জাতিসংঘ কান্ট্রি রেজাল্ট রিপোর্ট (2024 UN Country Results Report) প্রকাশ এবং আগামী বছরের জন্য কৌশলগত অগ্রাধিকার অনুমোদন করেছে।

 

জেএসসি রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, জলবায়ু-কেন্দ্রিক দুর্যোগ এবং সংস্কার প্রক্রিয়া গতিশীলতা  বিবেচনায় রেখে অভিযোজন ক্ষমতা এবং শাসন ব্যাবস্থা সংস্কার, মানবাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জাতিসংঘের সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরেছে।

 

জাতিসংঘ ২০২৪ সালে উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে। উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হচ্ছে, বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য মসৃণ উত্তরণ কৌশল তৈরিতে সহায়তা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ৪,০০০ এর বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার উন্নত করতে সহায়তা প্রদান এবং ১১,০০০ এর বেশি তরুণ-তরুণীকে ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।

 

জাতিসংঘের সহযোগিতার ফলে ৪ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা সেবায় প্রবেশাধিকার পেয়েছে। এর মধ্যে, ৫৮০,০০০ শিশু সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে। সারা বাংলাদেশে, ৫৬ লক্ষ কিশোরীকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করার জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ১০-১৪ বছর বয়সী মেয়েদের ৯৩ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

 

জাতিসংঘ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান, এবং ১৭. ২ লক্ষ দুর্যোগ-কবলিত মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে। এর পাশাপাশি, ২০ লক্ষ বাংলাদেশীর জন্য জলবায়ু ঝুঁকি বিষয়ক সচেতনতাও বৃদ্ধি করেছে। জাতিসংঘ তাদের শাসন ও জেন্ডার বিষয়ক কাজের মাধ্যমে ৬ কোটি ১০ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছানো ৬৬ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদকে সেবা প্রদানের জন্য গ্রাম আদালতকে কার্যকর করা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা বিলকে সমর্থন করেছে এবং পারিবারিক সহিংসতা আইন সংশোধনের জন্য সমর্থন জুগিয়েছে।

 

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব জনাব মোঃ শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিস গোয়েন লুইসের যৌথ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর সিনিয়র প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এক বছরের জন্য বর্ধিতকরণ, এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য জেএসসি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনএসডিসিএফ (২০২২-২০২৬) এক বছরের সম্প্রসারণের অনুমোদন দেয়। 

 

সভায় মিস গোয়েন লুইস বলেন, “বাংলাদেশের জন্য বিগত বছরটি  চ্যালেঞ্জিং ছিল, যদিও এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদাবোধ ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে। বাংলাদেশ এবং জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব নিয়ে আমি গর্বিত: এটি অভিন্ন মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে অটল রয়েছে”। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এবং আমরা স্থায়ী ভাবে সংস্কার, জলবায়ু অভিঘাত সহিষ্ণুতা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জেন্ডার সমতা এবং সমাজের কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে সে জন্য সহায়তা দিতে প্রস্তুত”।

 

আজকের আয়োজনে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিষয়ক ঘোষণাপত্র (Declaration on Future Generations) ও যুব সম্পৃক্ততায় জাতিসংঘের কার্যক্রম নিয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনের অংশগ্রহণকারীরা তরুণদের মতামত জোরদার করা এবং জাতীয় নীতিগত অগ্রাধিকারগুলিতে আন্তঃপ্রজন্মগত সাম্যকে একীভূত করার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা করে, যা ২০২৪ সালের ‘সামিট অব দা ফিউচার’- এর ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

 

জনাব সিদ্দিকী জাতিসংঘের অব্যাহত অংশীদারিত্বের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, সম্প্রসারিত ইউএনএসডিসিএফ এই পরিবর্তিত পরিস্থিতে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব বলেন, “বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের মতো জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্মে অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই, এবং জাতিসংঘ ও উন্নয়ন সহযোগীদের ধারাবাহিক সহায়তা প্রয়োজন,”। জনাব সিদ্দিকী আরও বলেন, “যুব কর্মসংস্থান, সামাজিক উদ্যোগ এবং ইমপ্যাক্ট ফান্ডিং-কে অগ্রাধিকার দিতে হবে, যেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার ‘তিন শূন্য’-র ভিশন বাস্তবায়িত হয়। আসন্ন সংস্কার ও নির্বাচন সামনে রেখে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় সরকার এবং জাতিসংঘ সহায়তার ওপরও মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন,”।

 

পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোতে একমত হওয়ার মধ্য দিয়ে বৈঠকের সমাপ্তি হয়। যার মধ্যে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইউএনএসডিসিএফ-এর চূড়ান্ত বর্ষের মূল্যায়ন শুরু করা এবং বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো (এসডিজি) অর্জন ও স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকার রয়েছে।

 

সহযোগিতা কাঠামোটি (Cooperation Framework) বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জাতিসংঘের পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকারের নির্ধারণ করে:

 

  1. অন্তর্ভূক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন
  2. সমতার ভিত্তিতে মানব উন্নয়ন ও কল্যাণ
  3. টেকসই, সহনশীল ও উপযোগী পরিবেশ
  4. রূপান্তরমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভূক্তিমূলক সুশাসন
  5. জেন্ডার সমতা ও জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা নির্মূল

 

জেএসসি পরবর্তী বৈঠক ২০২৫ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৪ সালের বাংলাদেশের জাতিসংঘ কান্ট্রি রেজাল্ট রিপোর্ট অনলাইনে পাওয়া যাবে।

 

2024 UN Country Results Report for Bangladesh  

 

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

লুইস বারবার
বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়
ইমেইল: barber@un.org 

এই উদ্যোগে জাতিসংঘের যে সকল সংস্থা যুক্ত

আরসিও
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর অফিস

এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা যে টেকসই লক্ষ্যগুলোকে সমর্থন দিচ্ছি