প্রেস রিলিজ

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস এর ৩০তম বার্ষিকী উপলক্ষে ইউনেস্কো আয়োজিত সেমিনারে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ে আলোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক

০৩ মে ২০২৩

এ বছর বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের ৩০তম বার্ষিকী উদ্যাপন করা হচ্ছে। 

দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘের সদস্য সকল রাষ্ট্র গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীরা কীভাবে প্রতিনিয়ত জনগণকে সঠিক তথ্য ও জনপরিসর সৃষ্টির মাধ্যমে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, তা গুরুত্ব সহকারে উপলব্ধি করছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিংবা আসন্ন নির্বাচনসহ প্রতিনিয়ত নানাবিধ সমস্যা ও বিষয়ে আমরা আলোচনা করি কিংবা সমাধানের পথ খঁুজে থাকি। আর এক্ষেত্রে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য—উপাত্তের সমন্বয়ে সংবাদ পরিবেশন করে একটি সক্ষম ও সচেতন সমাজ গঠনে গণমাধ্যম গুরুদায়িত্ব পালন করছে।

দিবসটি উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ইউনেস্কো এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যৌথভাবে ‘‘শেপিং এ ফিউচার অব রাইটস’’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশে^র অন্যান্য দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

‘‘ইউনেস্কো, টিআইবি ও আর্টিকেল—১৯’’ আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, এমপি। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয়ের অফিসার—ইন—চার্জ সুসান ভিজ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গুয়েন লুইস। এ ছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দ্রা বার্জ ভন লিন্ডে সহ মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের (এমএফসি) অন্তভুর্ক্ত বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশস্থ দূতাবাসের কর্মকর্তাসহ দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক মুক্ত গণমাধ্যম বিষয়  বাংলাদেশের রুপকল্প এবং   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর দেন।

জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গুয়েন লুইস বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে আমরা নিজেদের উন্নয়নকে ত¦রান্বিত করছি। সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা, যেখানে শুধু জনস্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, যার সুরক্ষা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। বিশ^ মুক্ত গণমাধ্যম দিবসে সত্য উদ্ঘাটনের মাধ্যমে জনগণকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া বাংলাদেশের সকল গণমাধ্যমকর্মীদের আমি অভিনন্দন জানাই।’

আলোচনা সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয়ের অফিসার—ইন—চার্জ সুসান ভিজ বলেন, ‘ইউনেস্কো মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করে, যার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা। টেকসই উন্নয়ন ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কোনো বিকল্প নেই।’

প্রয়োজনীয় তথ্য:

ইউনেস্কোর ‘‘সাধারণ সম্মেলনের’’ সুপারিশ অনুযায়ী জাতিসংঘের ‘‘সাধারণ সভা’’ ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বরে ‘‘উইন্ডহোক ঘোষণার’’ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ০৩ মে বিশ্¦ মুক্ত গণমাধ্যম দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।

৩০ বছর আগে জনস্বার্থে অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতের যে আকাক্সক্ষাবোধ থেকে দিবসটি উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিলো বর্তমান সময়েও তা সম—প্রাসঙ্গিক বিধায় এ বছর দিবসটির ৩০ বছর পূর্তির আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

স্বাভাবিকভাবেই ০৩ মে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় তাঁদের প্রতিশ্রম্নতিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। একইসাথে গণমাধ্যম পেশাজীবীদের তাঁদের পেশাগত স্বকীয়তা ও মানদণ্ডসমূহ বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দিতে চায়। আর তাই এই দিবসটি হচ্ছেÑ

  • গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নির্ণায়ক মৌলিক নীতিসমূহ উদ্যাপনের;
  • সারা বিশে^র গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোন পর্যায়ে, তা বিবেচনা নেওয়ার;
  • গণমাধ্যম যাতে স্বাধীনভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারেম সে ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া; এবং
  • যে—সকল গণমাধ্যমকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের।

 

এই উদ্যোগে জাতিসংঘের যে সকল সংস্থা যুক্ত

আরসিও
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর অফিস
ইউনেস্কো
জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা

এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা যে টেকসই লক্ষ্যগুলোকে সমর্থন দিচ্ছি