প্রেস রিলিজ

বাংলাদেশে নারী কৃষকদের ক্ষমতায়নে "আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬" এর উদ্বোধন ঘোষণা

০৮ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা, এপ্রিল ২০২৬  

ফটো: © FAO

বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয় বিগত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল -এ অনুষ্ঠিত আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি (IACC) সভায় আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ  ২০২৬ (IYWF 2026)-এর জাতীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এই উদ্যোগে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), জাতিসংঘের রোমভিত্তিক অন্যান্য সংস্থা— ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (IFAD) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (WFP)—, সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, কূটনীতিক সমাজের প্রতিনিধিগণ, উন্নয়ন অংশীজন এবং সারা দেশের কৃষক  প্রতিনিধিগণ একত্রিত হয়। এই  উদ্বোধন বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা,  জলবায়ু সহনশীলতা এবং কৃষি রূপান্তরে নারী কৃষকদের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার যৌথ  অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব ও IACC-এর চেয়ার রফিকুল ই মোহামেদ এবং বাংলাদেশে এফএও  প্রতিনিধি ও IACC-এর সহ-সভাপতি জিয়াকুন শি।অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বছরব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রমের আলোচনার সূচনা হয়, যার লক্ষ্য নারী কৃষকদের সহায়তা, ক্ষমতায়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, পাশাপাশি টেকসই ও খাদ্য-নিরাপদ সমাজ গঠনে তাদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (UNGA) ২০২৬ সালকে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা টেকসই কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় নারীর  গুরুত্বপূর্ণ  অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। বৈশ্বিক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি, সম্পদে ন্যায্য প্রবেশাধিকার এবং নারী কৃষকদের ভূমিকার অধিক স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। 

ফটো: © FAO

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ই মোহামেদ  সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়, জিয়াকুন শি, বাংলাদেশে এফএও  প্রতিনিধি। এছাড়াও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মধ্যে ইফাদ, ডাব্লিউএফপি, ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ, কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে নেদারল্যান্ডস রাজ্যের দূতাবাস, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা পরামর্শক গ্রুপ, উন্নত পুষ্টির জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স (GAIN), সিভিল সোসাইটি সংগঠনসমূহ এবং সারা বাংলা কৃষক সোসাইটির মতো কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রফিকুল ই মোহামেদ, সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয় বলেন: “এটি শুধু উদযাপনের বছর নয়; এটি কর্মের বছর। এটি আমাদের দেশের প্রতিদিনের খাদ্য  জোগানো লক্ষ লক্ষ নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার, তাদের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের উন্নয়নে বিনিয়োগ করার আহ্বান। এটি নতুন প্রজন্মের তরুণীদের জন্যও একটি সুযোগ—যাতে তারা কৃষিকে শুধু শ্রম নয়, বরং উদ্যোক্তা হওয়া, মর্যাদা এবং নেতৃত্বের পথ হিসেবে দেখতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আসুন আমরা সবাই—সরকার, জাতিসংঘ সংস্থা, উন্নয়ন অংশীদার, সিভিল সোসাইটি এবং জনগণ—একসাথে কাজ করি, যাতে ২০২৬ সাল বাংলাদেশের নারী কৃষকদের জন্য একটি রূপান্তরের বছর হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আজ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করছি।”

ফটো: © FAO

জিয়াকুন শি, বাংলাদেশে এফএও  প্রতিনিধি বলেন “এফএও, রোমভিত্তিক অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থা—IFAD এবং WFP— এবং আমাদের উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এই আন্তর্জাতিক বর্ষকে অর্থবহ ও কার্যকরী করে তুলতে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এফএও বিভিন্ন উদ্ভাবনী পাইলট কর্মসূচির পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র নারী  কৃষকদের ক্ষমতায়নের জন্য শক্তিশালী বিনিয়োগ কর্মসূচি গড়ে তুলবে, যা গ্রামীণ সম্প্রদায়ে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।”

সারা বাংলা কৃষক সোসাইটির সভাপতি রীতা ব্রাম্ম বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন: “আমার গ্রামের সমবায়ের নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে সারা বাংলা কৃষক সোসাইটির সভাপতি হওয়া পর্যন্ত আমার যাত্রা বাংলাদেশে নারী কৃষকদের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬-এর উদ্যোগগুলো আমাদের মতো নারীদের জন্য বিনিয়োগ, দক্ষতা এবং সুযোগের প্রবেশাধিকার বাড়াবে, যা আমাদের আরও শক্তিশালী ও সহনশীল কৃষি সম্প্রদায় গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”

এফএও বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃষি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়—এবং যাতে করে  সংস্থাটির “ফোর বেটারস” ভিশন (উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন) অর্জন নিশ্চিত হয়। 

IYWF ২০২৬-এর আওতায় এফএও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ঘোষণা করেছে:

• দক্ষিণাঞ্চলে “গ্রিনরুটস ফার্ম ল্যাব ফর ফার্মিং উইমেন” নামে একটি পাইলট প্রকল্প গড়ে তোলা, যার লক্ষ্য নারী-নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোকে পরিবেশবান্ধব করা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা।

• এফএও -এর হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড উদ্যোগের অধীনে একটি কৃষি নারী বিনিয়োগ ফোরাম গঠনের সম্ভাবনা যাচাই করা।

• উত্তরাঞ্চলে “নারী কৃষক সম্মিলন” আয়োজন, যা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (DLS), মৎস্য অধিদপ্তর (DoF) এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতায় কৃষি মন্ত্রণালয় ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা নারী কৃষকদের ভূমিকা স্বীকৃতি ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন  এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে তাদের অবদানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

 

For media inquiries and further information:

Naila Fahmin Rasha

Communication Specialist

naila.rasha@fao.org

 

About FAO Bangladesh:

https://www.facebook.com/FAOBangladesh

https://www.fao.org/bangladesh/en/

FAO Regional Office for Asia and the Pacific

http://www.fao.org/asiapacific

এই উদ্যোগে জাতিসংঘের যে সকল সংস্থা যুক্ত

এফএও
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা

এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা যে টেকসই লক্ষ্যগুলোকে সমর্থন দিচ্ছি