সাম্প্রতিক
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ
দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর পরিবেশ ও জলবায়ু রক্ষায় এবং সকল মানুষ যাতে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, তা নিশ্চিতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো একটি বৈশ্বিক আহ্বান। বাংলাদেশে নিম্নোক্ত লক্ষ্যগুলো অর্জনে জাতিসংঘ কাজ করছে:
প্রকাশনা
০১ জুন ২০২৬
United Nations Country Results Report Bangladesh 2025
The Annual Results Report 2025 highlights the United Nations’ strategic support to Bangladesh during a crucial period of political transition and institutional reform. As the Interim Government advanced its agenda on governance, justice, and preparation for national elections, the UN system provided coordinated, principled support to strengthen inclusive participation and democratic processes. Priority was given to amplifying the voices of youth, women, and civil society, alongside targeted interventions in areas such as women’s political participation, media reform, and emerging governance issues, including artificial intelligence. With 24 active joint programmes and total development delivery of USD 193 million, the UN Country Team demonstrated strong system-wide coherence and a sustained commitment to delivering as one.The report further underscores the importance of data, partnerships, and efficiency in advancing development outcomes in a constrained financing environment. UN support to national processes, such as the Voluntary National Review, alongside investments in data systems and surveys, has strengthened evidence-based policymaking and accountability. At the same time, the UN system enhanced operational efficiency, generating cost savings through common services while prioritizing high-impact interventions. Bangladesh’s continued engagement with international norms and multilateral frameworks, as well as its leadership in hosting Rohingya refugees, was supported by sustained UN collaboration and high-level partnerships. The report provides a forward-looking basis for policy dialogue and continued UN engagement to support Bangladesh’s transition and long-term development trajectory.We invite you to explore the full report to learn more about how the United Nations, in close partnership with national stakeholders, continues to deliver impactful results in Bangladesh and advance a more just, inclusive, and sustainable future for all.
1 এর 5
প্রবন্ধ
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছোট হাত, বড় পরিবর্তন
আরাফাত মাত্র ১১ বছর বয়সেই স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা প্রচার করে চলেছে। সে যখন কথা বলে তার বন্ধুরা সব মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনে, আর কেবল শোনেই না তারা নিজেদের জীবনে তা মেনেও চলে। যে কমিউনিটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষের বয়স ১৮ বছরের কম, সেখানে নেতৃত্বে ছোটদেরই এগিয়ে আসতে হয়। ধুলোমাখা পায়ে, ছোট্ট হাতের ফাঁকে এক টুকরো সাবান আর মুখে অফুরন্ত হাসি নিয়ে তারা খুব আনন্দের সাথে এ দায়িত্ব পালন করে চলেছে। “আমরা হয়তো ছোট, কিন্তু আমরা অনেক কিছু জানি,” বলে আরাফাত। “নিরাপদ খাবার পানি আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার উপকারিতা ও উপায় সম্পর্কে জানতে পেরে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। আমরা এই উপায়গুলো কিন্তু আবার সবার সাথে আলোচনা করি যাতে এর উপকারিতা সবাই পায়।”শিবিরে টিকে থাকাকক্সবাজারে শরণার্থী শিবিরের সরু গলিগুলো থাকে সদা ব্যস্ত; এখানে অবিরাম চলে বেচে থাকার লড়াই। বিশ্বের বৃহত্তম এই জনসংকীর্ণ শিবিরের অলিতে গলিতে লুকিয়ে থাকে নানা পদের বিপদ আর ঝুঁকি; নোংরা পানিভর্তি ডোবা, বদ্ধ নর্দমা কিংবা অপরিষ্কার হাত, যেকোন কিছু থেকেই ঘটে যেতে পারে বড় কোন বিপদ, গোটা শিবিরে ছড়িয়ে পড়তে পারে মারাত্মক কোন রোগ। তাই বেঁচে থাকার লড়াইকেই যেন এক উৎসবের রূপ দিয়েছে এখানকার শিশুরা—হাততালি, হাসি, এবং হাত ধোয়া নিয়ে শিশুরা গান গেয়ে নিজেদের ও কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত। শিবিরের পরিবেশ যেহেতু বেশ ঘিঞ্জি আর পরিবারগুলো একই পানির কল ও শৌচাগার (পায়খানা) ব্যবহার করে, তাই রোগ ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা প্রতিরোধ করা অপরিহার্য। এক টুকরো সাবান বা একটি পরিষ্কার ও ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়াসহ যেকোন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে। “এখানে শত শত শিশু আছে,” বলে আরাফাত। “আমরা ধুলোয় খেলা করি এবং মাঝে মাঝে হাত ধুতে ভুলে যাই। একজন অসুস্থ হলে, আস্তে আস্তে আমাদের বাকিরাও অসুস্থ হয়ে পড়ে।”তাহলে শিশুরা কীভাবে নিরাপদ থাকবে? আরাফাত ও তার বন্ধুদের কাছে কিন্তু এর একটি দারুণ সমাধান আছে। শিশুদের মাঝে 'ওয়াশ' চ্যাম্পিয়নআরাফাত ও তার বন্ধুরা " শিশু নেতৃত্ব দল"(চাইল্ড লিডার'স গ্রুপ) এর সদস্য, যেখানে ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুরা তাদের সমবয়সীদের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি শিখতে সাহায্য করে।ইউনিসেফের অংশীজনদের সহযোগিতায়, তারা জীবাণু নামক অদৃশ্য শক্তিশালী দৈত্য ও তার সাথে লড়াই করে জেতার উপায় সম্পর্কে শিখেছে। ভারী বই কিংবা শিক্ষকের গুরুগম্ভীর বক্তৃতা নয় বরং হাসি ও খেলার ছলে তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নানান নিয়ম-কানুন ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শেখে - কখনও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার বিভিন্ন উপায় সম্বলিত লুডুর বোর্ড কিংবা মজার কোন ছড়া গান – এভাবেই হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা মেনে চলার বিভিন্ন অভ্যাস রপ্ত করে ফেলে তারা। নিয়ম-কানুন শিখেই কেবল তারা ক্ষান্ত হয় না; বরং তারা নিজেরা তা পালন করে এবং প্রতি মাসে একবার সবাই একসাথে দেখা করে আলোচনা করে শিবিরের আশেপাশের অলিগলিতেও (ব্লকে) কীভাবে তারা সবাইকে এবিষয়ে উদবুদ্ধ করতে পারে। আরাফাত বলে, “আমরা লুডু খেলার মাধ্যমে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার নিয়ম ও সময়, নিজের, পরিবারের ও কমিনিটিকে পরিষ্কার রাখার উপায় সম্পর্কে শিখেছি। এখন আমরা এই শিক্ষা আমাদের ভাইবোন, বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের কাছে পৌঁছে দিই।”হঠাৎ কোন কল ভেঙে গেলে শিশু নেতৃত্ব দল সাথে সাথে কমিউনিটিকে অবগত করে এবং তা সময়মত ঠিক করা হলো কিনা সেবিষয়য়ে খবর রাখে। ইউরোপীয়ান সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটেরিয়ান এইড অপারেশনস (ECHO)-এর ধারাবাহিক সহায়তায়, ইউনিসেফ তাদের অংশীজনদের সাথে মিলে শিবিরগুলোতে ৩২০টিরও বেশি শিশু নেতৃত্ব দল প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে ১,৪৪০ জনেরও বেশি কন্যাশিশু সহ প্রায় ৩,২০০ রোহিঙ্গা শিশু ও কিশোর-কিশোরী সম্পৃক্ত রয়েছে।বন্ধুত্বের শক্তিএগারো বছর বয়সী রুকানা, শিশু নেতৃত্ব দলের আরেকজন সক্রিয় সদস্য। রুকানা হাত ধোয়ার পদ্ধতি নিজে ভালোভাবে শিখেছে আর এখন তার বন্ধুদেরও শেখাচ্ছে। “যখন আমাদের শিক্ষক বা বড়রা আমাদের কিছু করতে বলেন, আমরা তা কখনো সম্মান তো কখনো ভয়ের খাতিরে শুনি। কিন্তু যখন আরাফাত আমাদের কিছু শেখায় বা করতে বলে, আমরা সে কাজটা খুব মন দিয়ে করি কারণ সেতো আমাদের বন্ধু আর বন্ধুদের সাথে মিলে কোন কাজ করাটা বেশ মজার”, রুকানা বলে। ছোট শিশুরা সাধারণত তাদের বন্ধুদের সাথেই থাকতে পছন্দ করে, ফলে শিশুরা এমন অনেক কিছু লক্ষ্য করে যা বড়দের নজর প্রায়ই এড়িয়ে যায়: যেমন কোন বন্ধু ফুটবল খেলার পর হাত ধোয় নাই কিংবা ইফতারের পর খাবের উচ্ছিটাংশ বাইরেই ফেলে দিলো। কমিউনিটির চোখ ও কান হিসেবে তারা অন্যদের মনে করিয়ে দেয় যে পরিচ্ছন্নতা একটি দৈনন্দিন অভ্যাস। বিশাল চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা: বাস্তব পরিস্থিতিপাঁচ লক্ষাধিক শিশুকে আশ্রয় দেওয়া শিবিরগুলোতে সবচেয়ে বড় হুমকিগুলো আদৌতে খালি চোখে দেখা যায় না। তাই ক্যাম্পে নিয়মিত হাত ধোয়া নিছক স্বাস্থ্যবিধির অংশ নয়, বরং এটি সুরক্ষা, মর্যাদা এবং সংকট থেকে রক্ষাকবচ।তাই এই শিশু দলের সদস্যরা তাদের সমবয়সীরা স্বাস্থ্যবিধি পালন করছে কিনা তা নিয়মমাফিক পর্যবেক্ষণ করে, ভাঙা কল বা বদ্ধ নর্দমার খবর দেয় এবং বিশ্ব শৌচাগার দিবস, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের মতো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেয়; শিশু নেতৃত্ব দলের কিন্তু অনেক দায়িত্ব। ““মাঝে মাঝে আমরা দেখি, আমাদের মতন বাচ্চারা পানির কল বিক্রি করে মিষ্টি কিনে খায়,” বলে আরাফাত। “আমরা তাদের মনে করিয়ে দিই যে পানি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমাদের কলগুলো বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সবার পানির জোগান বন্ধ হয়ে যাবে।”শিশুর কোন নতুন অভ্যাস কখনও কখনও তার বাবা-মা, ভাইবোন এবং প্রতিবেশীদের মধ্যেও আস্তে আস্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এভাবে একটি শিশু সচেতন করতে পারে ডজন খানিক পরিবারকে। আর শিশুদের মধ্যে সঞ্চার হয় নেতৃত্ব ও দায়িত্ববোধের। তবে পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তন করাটা খানিকটা চ্যালেঞ্জিং বটে। ছোট শিশুদের মুখে নতুন ধারার কথা শুনে কেউ হয় সন্দিহান, কেউ হয় বিরক্ত। কিন্তু বেশ ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে এই শিশুরা মানুষের মন জয় করে সচেতনামূলক এই কাজ করে চলেছে।“মাঝে মাঝে বড়রা মনে করে যে এই অভ্যাসগুলো শেখানোর জন্য আমরা খুব ছোট,” আরাফাত জানায়। “কিন্তু আমরা হাল ছাড়ি না। এটাই আমাদের শক্তি।”সাবান ও পানি কিন্তু তুচ্ছ কিছু নয় শিশু নেতৃত্ব দল কেবল স্বাস্থ্যবিধি শেখায় না, এর নেপথ্যে রয়েছে সম্মান ও মর্যাদা শিক্ষা ও চর্চা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরাফাত ও তার বন্ধুদের মতো শিশুরা তাদের সুপ্ত সম্ভাবনার বিকাশ ঘটাতে পারে। তারা শেখে যে নেতৃত্ব দেবার গুণাবলী বয়সের ওপর নির্ভর করে না, বরং কাজের ওপর নির্ভর করে।যখন আরাফাত বা রুকানা ব্যাখ্যা করে কেন আর কীভাবে পরিষ্কার হাত রোগ প্রতিরোধ করে, তখন তারা স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের পাশাপাশি তৈরি করে আত্মবিশ্বাস, গড়ে তোলে আস্থা। পরিষ্কার হাতে গড়া এক ভবিষ্যৎএই শিশুরা শুধু স্বেচ্ছাসেবকই নয়—তারা পরিবর্তনের আত্মবিশ্বাসী বাহক, যারা শেখায় যে স্বাস্থ্যবিধি মানেই সাম্য ও মর্যাদা।রোহিঙ্গা শিবিরে পরিবর্তন বড় বড় ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় না, বরং শিশুদের ছোট ছোট দল একসাথে শেখার মাধ্যমে তার গতি ত্বরান্বিত করে। প্রতিবেশীদের একত্রিত করা হোক বা বন্ধুদের খোঁজখবর নেওয়া হোক, এই ক্ষুদে নেতারা দেখিয়ে দেয় যে দক্ষতা আর সামান্য আনন্দের ছোঁয়ায় তারা এক নিরাপদ ভবিষ্যত তৈরির ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। এক এক জোড়া পরিচ্ছন্ন হাতের ছোঁয়ায় একটি স্বাস্থ্যকর কমিউনিটি গড়ে ওঠে। তাদের হাতে শরনার্থী শিবিরের ভবিষ্যৎ শুধু পরিষ্কার পরিচ্ছন্নই নয়, বরং বেশ উজ্জ্বলও ।
1 এর 5
বক্তব্য
২৩ জুন ২০২৬
লন্ডন জলবায়ু অ্যাকশন সপ্তাহ উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের বক্তৃতা
প্রিয় বন্ধুগণ,সংকট থেকে স্বচ্ছতা আসে।আজ এখানে, এই লন্ডন শহরে, চালর্স ডিকেন্সের শহর লন্ডনে এটা পরিষ্কার যে আমাদের আজকের পৃথিবী ‘দুই সংকটের গল্পের’ মুখোমুখি। এক দিকে জলবায়ু সংকট আমাদের ক্রমাগত আরও উচ্চ তাপমাত্রার দিকে তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে, বিপর্যকর মাত্রার আরও কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।অন্য দিকে জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হচ্ছে হাইড্রোকার্বনের ওপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল পৃথিবীর অদূরদর্শিতা।সাদা চোখে এই দুটো সংকটকে আলাদা মনে হতে পারে।কিন্তু দুই সংকটের পেছনেই রয়েছে একই ধ্বংসাত্মক শক্তি:সেটা হলো জীবাশ্ম জ্বালানি।এবং দুই সংকটই দাবি করে অভিন্ন সমাধান:তা হলো, দ্রুত গতিতে যথাযথভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর সাধন এবং অভিযোজনক্ষমতা, টিকে থাকা ও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির শিকার মানুষদের জন্য জলবায়ু ন্যায়বিচার ত্বরান্বিত করা।প্রিয় বন্ধুগণ, আমাদের এক নম্বর সমস্যা হলো, আমাদের চোখের সামনেই জলবায়ু নৈরাজ্য ত্বরান্বিত হচ্ছে।এ যাবৎ কালে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে উত্তপ্ত এগারো বছর আমরা অতিক্রম করছি।জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে নানা রকমের দুর্যোগ ক্রমশই আরও ঘন ঘন ঘটছে; সেগুলো আরও ধ্বংসত্মক হয়ে উঠছে; আরও বেশি বেশি ক্ষয়ক্ষতির কারণ ঘটাচ্ছে।বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আমাদের সতর্ক করে দিয়ে বলছে যে আমরা এখনো বিপর্যয়ের কিছুই দেখিনি।এল নিনো আমাদের দরজায় শুধুই কড়া নাড়ছে না; বাড়িটাই উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হুমকি দিচ্ছে। তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলছে। খাদ্য ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা–বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আঘাত হানছে পীড়িত ও নাজুক জনগোষ্ঠীগুলোর ওপর।আজ থেকে দশ বছর আগে প্যারিসে বিশ্বনেতারা একমত হয়েছিলেন যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এখন বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে গড় বার্ষিক তাপমাত্রা সেই সীমা অতিক্রম করে যাবে।সামনে আমাদের করণীয় হলো এই অতিরিক্ত বৃদ্ধি কঠোরভাবে সীমিত করা, এর স্থায়িত্ব কমানো, এবং যত দ্রুত সম্ভব তাপমাত্রা আবার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনা।প্রতিটি ভগ্নাংশ ডিগ্রিই গুরুত্বপূর্ণ।প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান।কারণ, এই অতিরিক্ত বৃদ্ধি যত বেশি হবে, যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, তত বেশি ঝুঁকি তৈরি হবে এই গ্রহের সেই সীমারেখা অতিক্রম করার, যার ফলে এমন মাত্রার সব পরিবর্তনের সূচনা ঘটবে যা আর শোধরানো যাবে না।জাতিসংঘের বৈজ্ঞানিক পরামর্শক বোর্ড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করতে যাচ্ছে, সেই প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে এর অর্থ কী হতে পারে।প্রবাল দ্বীপগুলোকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।গ্রিনল্যান্ড ও পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার বরফস্তর গলে যাওয়ার গতি আরও ত্বরান্বিত হবে; তার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি পেয়ে যাবে; সমুদ্র উপকূলগুলো আকার–আকৃতি বদলে যাবে; লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে এবং কিছু দ্বীপরাষ্ট্রের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে যাবে। আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান মহাসাগরীয় সঞ্চালন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে।এবং আমাজন রেইনফরেস্টের কিছু অংশ বনজঙ্গল ধ্বংস হয়ে অনুর্বর তৃণভূমি বা সাভান্নার মতো অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার দিকে এগোবে।প্রিয় বন্ধুগণ, পৃথিবী নামের এই গ্রহটির পক্ষে সহনীয় তাপমাত্রার সর্বোচ্চ সীমা আসলে গাড়ির আয়না দিয়ে দেখা জিনিসগুলোর মতো।গাড়ির আয়নায় বিভিন্ন জিনিসপত্র যত দূরে দেখা যায়, আসলে সেগুলো তত দূরের নয়; বরং বেশ কাছেরই।একই সময়ে আমরা আরও একটি সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি:মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ–সংঘাত থেকে সৃষ্টি হয়েছে সমস্ত জ্বালানি ধাক্কা।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বলছে, এই জ্বালানি সংকটের মাত্রা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট...এবং সঙ্গে তুলনীয়… এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর যে জ্বালানি ক্ষেত্রে যে বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল––এই দুই সংকটের যোগফলের সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার মতো।অনেক উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটা শুধু জ্বালানি সংকট নয়; এ থেকে সৃষ্টি হয়েছে তাদের ঋণের সংকট। খাদ্যের সংকট। উন্নয়নের সংকট। এই সঙ্গে আমি আরও বলব যে, আমরা যে কোনো শান্তিচুক্তিকে অবশ্যই স্বাগত জানাই, যার ফলে খুব প্রয়োজনীয় স্বস্তি আসবে; কিন্তু ভুল করবেন না—এই সংকটের প্রভাব সম্ভবত দীর্ঘস্থায়ী হবে।প্রিয় বন্ধুগণ,এই দুই সংকটের মধ্য দিয়ে একটি সেকেলে উন্নয়ন মডেলের সীমাবদ্ধতা পরিষ্কার হয়েছে।এটা এমন এক উন্নয়ন মডেল যার প্রধান চালিকাশক্তি জীবাশ্ম জ্বালানি; অথচ একটা যুদ্ধই গোটা বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিরাট ওলোটপালট ঘটাতে পারে; একটা বাধাবিঘ্নই জ্বালানির মূল্য আকাশে তুলতে পারে।এটা এমন এক মডেল, যেখানে মনে করা হয় প্রকৃতি অফুরন্ত, পরিণাম কী হতে পারে তা না ভেবেই প্রাকৃতিক সম্পদ যথেচ্ছ ভোগ করা যায়। এটা এমন একটা মডেল, যা বিপুল সম্পদ সৃষ্টি করেছে, কিন্তু যার ফলে মানুষে মানুষে বৈষম্য আরও গভীর হয়েছে, যা উসকে দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা।এটা এমন একটা মডেল, যেখানে যারা এই সংকটগুলোর জন্য সবচেয়ে কম দায়ী, তাদেরই সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে। এই মডেল থেকে পরিষ্কার যে শিক্ষা আমরা পাই, তা হলো: এই মডেলের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। পৃথিবী আর পেছনে ফিরে যেতে পারে না।আমরা জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক এই ব্যবস্থা দ্বিগুণ জোর দিয়ে আঁকড়ে ধরতে পারি না, যার ফলে একই সঙ্গে জলবায়ু সংকট ও জ্বালানি সংকট ত্বরান্বিত হচ্ছে।যা আমাদের জরুরি প্রয়োজন, তা হলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের ইচ্ছাশক্তি।উন্নতি–সমৃদ্ধির সঙ্গে টিকে থাকা ও ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতার সামঞ্জস্য । প্রবৃদ্ধি অর্জন করা এবং তা টেকসই করার উপায়ের মধ্যে সামঞ্জস্য ।সুযোগ ও ন্যায়বিচারের সামঞ্জস্য। সুসংবাদ হলো, অতীতের প্রতিটি জ্বালানি সংকটের বিপরীতে এবার আমাদের সামনে রয়েছে একটি স্পষ্ট পথ। একটি পরিচ্ছন্ন পথ। বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলে এখন নবায়নযোগ্য জ্বালানি নতুন বিদ্যুতের সবচেয়ে সস্তা, দ্রুততম এবং সবচেয়ে সম্প্রসারণযোগ্য উৎস।২০১০ সাল থেকে সৌরবিদ্যুতের খরচ প্রায় ৯০ শতাংশ কমেছে; স্থলভাগের বায়ুবিদ্যুতের খরচ কমেছে ৭০ শতাংশের বেশি, আর ব্যাটারি বিদ্যুতের খরচ কমেছে ৯৫ শতাংশ। গত বছর বিশ্বব্যাপী নতুন বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি ছাড়িয়ে গেছে বায়ুবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ। ইতিহাসের যে কোনো বিদ্যুৎ উৎসের তুলনায় সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধির রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে।বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন সংযোজনের ৯০ শতাংশেরও বেশি ইতিমধ্যে সবচেয়ে কম খরচের জীবাশ্ম জ্বালানি বিকল্পের চেয়ে সস্তা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থার হিসাব অনুসারে, বিদ্যমান নবায়নযোগ্য জ্বালানি–সক্ষমতা শুধু ২০২৫ সালেই জীবাশ্ম জ্বালানির খরচ এড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ৪৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাশ্রয় করেছে। আর নবায়নযোগ্য জ্বালানি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাপানের সম্মিলিত বার্ষিক কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের চেয়েও বেশি নিঃসরণ এড়াতে সক্ষম হয়েছে। এখন জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের প্রায় দ্বিগুণ বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত। এই গতিবেগের একটা বড় অংশ এসেছে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলো থেকে; তারা এখন অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত জ্বালানি বাজার থেকে নিজেদের মুক্ত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।তারা একটা মৌলিক সত্য ধরতে পেরেছে:তা হলো, একটা দেশ যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বা জ্বালানি নিজের জন্য উৎপাদন করে তার প্রতিটি ইউনিয়টে এক ইউনিট করে ঘাটতি থেকে যায়, যা তাকে কিনতে হয় এমন এক জ্বালানি বাজার থেকে, যে বাজারের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই; সেই জ্বালানি আসে এমন পথে, যে পথের নিরাপত্তা সে নিশ্চিত করতে পারে না; যে দামে তাকে সেই জ্বালানি কিনতে হয় তা নির্ধারিত হয় এমন সব ঘটনার দ্বারা, যার ওপর তার কোনো হাত থাকে না।কিন্তু সূর্যের আলোর ওপরে তো কোনো অবরোধ–নিষেধাজ্ঞা–এমবার্গো নেই; অবরোধ নেই বাতাসে।প্রিয় বন্ধুগণ,আমাদের সিদ্ধান্ত এখন স্পষ্ট:জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভর করে জ্বালানি–স্বনির্ভরতা গড়ে তোলা যায় না।নবায়নযোগ্য জ্বালানিই প্রকৃত জ্বালানি নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।পরিবহন, ভবন ও শিল্পের বিদ্যুতায়ন করা হলো কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসার দ্রুততম উপায়গুলোর অন্যতম।যত বেশি অর্থনীতি নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে চলবে, তত বেশি নিরাপদ, স্থিতিস্থাপক এবং প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে।তাহলে আমরা কীভাবে একটি পরিচ্ছন্ন রূপান্তর ঘটাব?আমি সাতটি ধাপের কথা তুলে ধরতে চাই।প্রথমত, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রমের মাত্রা ও স্থায়িত্ব কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করার লক্ষে আমাদের আরও অনেক বেশি তৎপর হতে হবে। বিজ্ঞানের কাছ থেকে আমরা একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ বা পথনকশা পেয়েছি:কার্বন নিঃসরণ অবশ্যই অবিলম্বে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে যাবে...তারপর এই দশক ধরে ক্রমশ নিচের দিকে নামতে থাকবে... এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের নিট হার হবে শূন্য।তবু পৃথিবী এখনও বিপজ্জনকভাবে ঠিক পথের বাইরেই রয়ে গেছে।সর্বশেষ জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৩৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক নিঃসরণের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ কমানো সম্ভব হবে।কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, ১.৫ ডিগ্রি সীমার মধ্যে থাকতে হলে একই সময়ে নিঃসরণ ৬০ শতাংশ কমাতে হবে। বৈশ্বিক নিঃসরণের প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী যে জি ২০, তাদের অবশ্যই নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে হবে।প্রত্যেক বড় নিঃসরণকারী দেশকে নিঃসরণ কমানোর পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে হবে।এবং প্রতিটি দেশকে তাদের প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি অর্জন করতে হবে।২০২৩ সালের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে সরকারগুলো যেমনটি অঙ্গীকার করেছিল, সেভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে। বন উজাড় করার তৎপরতা বন্ধ করে প্রকৃতি পুনরুদ্ধার করতে হবে।কয়লা, তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও ব্যবহার থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ দ্রুত কমাতে হবে। কার্বন ডাই অক্সাইড দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের প্রধান চালক হিসেবে রয়ে গেছে।এখন সময় এসেছে মিথেন কমানোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার।মিথেন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী।এই গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইডের তুলনায় প্রায় আশি গুণ বেশি শক্তিশালী।কিন্তু কার্বন ডাই অক্সাইডের বিপরীতে মিথেন এক বা দুই দশকের মধ্যে বায়ুমণ্ডলে ভেঙে যায়।এর অর্থ হলো, ব্যাপক হারে মিথেন কমানো গেলে এক প্রজন্মের মধ্যেই দৃশ্যমান মাত্রায় তাপমাত্রা কমতে পারে। এ কারণেই আজ আমি মিথেন নিয়ে একটি বৈশ্বিক কর্মসূচির আহ্বান জানাচ্ছি।এই কর্মসূচিতে তিনটি খাতের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে:বর্জ্য খাত: খাদ্য অপচয় কমানো, খোলা জায়গায় যখানে–সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা; ভাগাড় ও দূষিত জলাশয় থেকে নিঃসরণ সংগ্রহ করা, যাতে তা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়তে না পারে––এই ধরনের দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া।কৃষি খাত: প্রমাণিত সমাধানের মাধ্যমে নিঃসরণ কমানো, খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ানো এবং কৃষকদের জীবিকা রক্ষা করা।এবং সেই খাতের প্রতি বিশেষ মনোযোগ নিবদ্ধ করা, যে খাতটি আমাদের পৃথিবীর যুগল সংকটের মূল কারণ; যে খাতে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। সেটা হলো কয়লা, তেল ও গ্যাস খাত।জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পের জন্য যা বহু আগে থেকেই অবশ্যকরণীয়, তা করতে এগিয়ে আসার জন্য আমি এই শিল্পের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা দেখতে পেয়েছে, তেল ও গ্যাস থেকে মিথেন নিঃসরণের প্রায় ৭০ শতাংশ দূর করা সম্ভব বর্তমানে বিদ্যমান প্রযুক্তি ব্যবহার করেই; তার অনেকটাই কম খরচে বা কোনো নিট খরচ ছাড়াই। তবু শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় ১৬৭ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস পোড়ানো হয়েছে, যে পরিমাণ গ্যাস আফ্রিকা ব্যবহার করে এক বছরে।জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির মিথেন অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম (মিথেন সতর্কতা ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা) ইতিমধ্যে ৩৩টি দেশে পাঁচ হাজারের বেশি সতর্কতা জারি করেছে।কিন্তু তা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া হার মাত্র প্রায় ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।এই কারণেই স্বেচ্ছাসেবী পদক্ষেপ আর যথেষ্ট নয়।বিশ্ব সিসাযুক্ত পেট্রলের ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করেছে।আমরা ওজোন ধ্বংসকারী রাসায়নিক দূর করেছি।এবার মিথেন দূষণকে লক্ষ্যবস্তু করতে হবে।আমি উৎপাদক ও ভোক্তা দেশগুলোর সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তেল ও গ্যাস খাতের জন্য একটি নতুন বৈশ্বিক মানদণ্ড নির্ধারণ করুন; সেটা হোক পুরো ভ্যালু চেইন জুড়ে প্রায়-শূন্য মিথেন নিঃসরণ। দ্বিতীয়ত, যে জ্বালানি আমাদের সংকট ত্বরান্বিত করেছে, তার ওপর নির্ভরতা না বাড়িয়ে আমাদের আজকের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে হবে। পৃথিবী জুড়ে অনেক শক্তিশালী মহল এখনো আরও কয়লা খনি, আরও তেলক্ষেত্র, আরও গ্যাস সম্প্রসারণের দাবি করছে। তারা এটা দাবি করছে এমন সময়ে, যখন পৃথিবী ইতিমধ্যে সহজলভ্য জীবাশ্ম জ্বালানির সবটা ব্যবহারে সক্ষম নয়; শুধু তাই নয়, তারা এমন সব নতুন নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানাচ্ছে যেগুলো তাদের অর্থনৈতিক আয়ু ফুরানোর আগেই সেকেল ও অচল হয়ে যেতে পারে।এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা দরকার: এসব করা হলে শুধু যে সম্পদই আটকে পড়বে তা নয়, বরং পুরো অর্থনীতিই আটকে পড়বে। আজকের ও আগামী দিনের প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন চলবে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে। ওলোটপালটের সময়ে পরিচিত জিনিস আঁকড়ে ধরা থাকার প্রবণতা কাজ করে, এটা আমি বুঝি।‘যেভাবে চলছে সেভাবেই চলুক’— এই ধরনের কথায় কেউ কেউ ভরসা পায়।কিন্তু এর মানে হলো কম নিরাপত্তার জন্য বেশি মাশুল গোনা। এর মানে হলো একুশ শতকের শিল্প ও কর্মসংস্থান অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া, আর নিজের ঘরে ঝুঁকি বাড়তে থাকা।এটা নেতৃত্ব নয়। এটা পেছনে সরে যাওয়া।এবং আমাদের একইভাবে বুঝতে হবে, কাকে বেশি মাশুল গুনতে হচ্ছে।শ্রমজীবী মানুষকে।তাদের পরিবারগুলো দিনকে দিন জীবনযাত্রা বৃদ্ধির চাপ অনুভব করছে, আরও বেশি অনিশ্চয়তাবোধে ভুগছে আর এমন অনুভূতি নিয়ে সংগ্রাম করে চলেছে যে বিদ্যমান ব্যবস্থা তাদের জন্য কাজ করছে না। অথচ জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের দানবেরা অস্বাভাবিক হারে মুনাফা লুটে নিচ্ছ।জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের বৃহত্তম আটটি কোম্পানি চলতি বছরের শুধু প্রথম প্রান্তিকেই অতিরিক্ত ৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পকেটে ভরেছে; এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মাত্র এক মাসের হিসাবই ধরা হয়েছে, যখন তেলের দাম বাড়ছিল এবং মুনাফা বাড়ছিল। এগুলো হলো অস্থিরতা, কষ্টকর পরিস্থিতি ও নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট দুঃখকষ্ট থেকে তুলে নেওয়া মুনাফা। এসবের উপরে কর আরোপ করার জন্য আমি সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আহ্বান জানাচ্ছি সেই অর্থ সেই সব খাতে ব্যবহার করার জন্য, যে খাতের তা প্রাপ্য: নাজুক পরিবার ও জনগোষ্ঠীগুলোর সাহায্য–সহযোগিতা; নবায়নযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী জ্বালানির দিকে অগ্রযাত্রা ত্বরান্বিত করার কাজে।কিন্তু ক্ষতিকর ভর্তুকি ও প্রণোদনা বন্ধু করাই যথেষ্ট নয়। আমাদের সেই সব কাঠামোগত বাধাও দূর করতে হবে, যেগুলো নবায়নযোগ্য পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্পগুলোকে আটকে রাখছে।গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রায়শই তাদের স্রেফ অপেক্ষা করছে, কখনো কখনো বছরের পর বছর ধরে।বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত।বিতরণ ব্যবস্থা সেকেলে। সংরক্ষণ ব্যবস্থা পিছিয়ে পড়ে আছে। ডিজিটাল ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট স্মার্ট বা নমনীয় নয়। আর আঞ্চলিক ও আন্তঃআঞ্চলিক সংযোগ এখনো খুব সীমিত। যদি আমরা রূপান্তরকে গুরুত্বসহকারে নিই, তা হলে আমাদের গ্রিডকে কৌশলগত অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিদ্যুতায়নের যুগে গ্রিড, সংরক্ষণ ও সিস্টেমের নমনীয়তার ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন। আর আমাদের প্রয়োজন একুশ শতকের উপযোগী বিধিবিধান। আধুনিক পরিকল্পনা, দ্রুত অনুমোদন এবং পরিচালন ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে সরকারগুলোকে অবশ্যই বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয়ত, জ্বালানির চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় আমাদের এর দ্রুততম বৃদ্ধি পাওয়া উৎসগুলোর একটি মোকাবিলা করতে হবে; তা হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টারগুলো। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জলবায়ু সংকটের সমাধান ত্বরান্বিত করতে পারে। এটি রোগ নিরাময়ে সাহায্য করতে পারে; শিক্ষা রূপান্তর করতে পারে, এবং মানবজাতিকে এমন সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে পারে, এক সময় আমাদের নাগালের বাইরে বলে মনে হতো। আমাদের সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। কিন্তু কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা একই সঙ্গে ভূমি, পানি ও জ্বালানির জন্য ক্ষুধার্ত। এর ডেটা সেন্টারগুলোর পেছনে ইতিমধ্যেই অধিকাংশ দেশের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ডেটা সেন্টারগুলোর পেছনে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ পাঁচটি দেশ বাদে সব দেশের চেয়ে বেশি হতে পারে; ব্যবহৃত পানির পরিমাণ এত বেশি হতে পারে, যা সাব-সাহারান আফ্রিকা অঞ্চলের ১.৩ বিলিয়ন মানুষের মৌলিক চাহিদা এক বছরের জন্য পূরণের জন্য যথেষ্ট।কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টারগুলো জমিও দখল করছে, এবং তা প্রাশই এমন জায়গায়, যেখানে এর সুফল খুব কমই পৌঁছে। এই সব স্পষ্ট উদ্বেগ সত্ত্বেও মানুষকে তাদের চার পাশে গড়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোর পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে প্রায়শই অন্ধকারে রাখা হয়। তাই আমি আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক পরিবেশগত স্বচ্ছতা উদ্যোগ (AI Environmental Transparency Initiative) গ্রহণের প্রস্তাব করছি।আমি আজ কার্বন, পানি ও ভূমির ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামোর পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাবের ছাপ পরিমাপ করে তা সমক্ষে প্রকাশ করার জন্য প্রতিটি বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানির প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সেই সঙ্গে এমন অঙ্গীকার করার আহ্বান জানাচ্ছি যে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি ডেটা সেন্টার নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে চালানো হবে। আর কোনো গোপন ব্যয় নয়। সেই সব মানুষের কাঁধে আর কোনো বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নয়, যারা তা বহন করতে সবচেয়ে কম সক্ষম। সত্য প্রকাশ করার সময় এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি আমাদের জন্য আরও ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সাহায্য করতে চায়, তা হলে এই শিল্পের জন্য এখনই আমাদের কী মূল্য দিতে হচ্ছে তা সম্পর্কে অবশ্যই সততা দেখাতে হবে।চতুর্থত, আমাদের একটি ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর নিশ্চিত করতে হবে।ইতিহাস থেকে আমরা এক কঠোর বাস্তবতার শিক্ষা পাই: সবচেয়ে বড় হুমকি খোদ রূপান্তর নয়, বরং তা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়া।আজ আমরা সেই ঝুঁকির মুখোমুখি।জ্বালানি রূপান্তর সুসংগতভাবে এগোচ্ছে না।নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়লেও জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ অব্যাহতভাবে চলছে।বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন দিকে টানছে।উৎপাদকেরা জিজ্ঞাসা করছে: আমাদের আয়, আমাদের চাকরি, আমাদের অর্থনীতির কী হবে?ভোক্তারা জিজ্ঞাসা করছে: জ্বালানি কি সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য থাকবে?উন্নয়নশীল দেশগুলো জিজ্ঞাসা করছে: আমরা কি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারব, না পিছিয়ে পড়ে যাব?শ্রমিক, নানা জনগোষ্ঠী ও তরুণ–তরুণীরা জিজ্ঞাসা করছে: এই রূপান্তর আমাদের ভবিষ্যতের জন্য কী অর্থ বহন করছে?এ মুহূর্তে এসব প্রশ্নের উত্তর সমন্বিতভাবে দেওয়া হচ্ছে না।আমাদের একটি যৌথ, বাস্তবসম্মত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যেখানে মনোযোগ নিবদ্ধ থাকবে ফল উৎপাদনের দিকে। প্রয়োজন একটি পরিসর বা ক্ষেত্র, যেখানে উৎপাদক, ভোক্তা, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ, অর্থনীতি, শিল্প, শ্রম ও নাগরিক সমাজ একত্রে মিলিত হবে।প্রয়োজন এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে মনোযোগ দেওয়া হবে সেই বাস্তব সমস্যাগুলোর ওপর, যা নির্ধারণ করবে এই রূপান্তর সফল হবে না ব্যর্থ হবে।আমরা কীভাবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ধাপে ধাপে কমাব এবং একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি দ্রুত বাড়াব?আমরা কীভাবে সেই দেশগুলোর অর্থনৈতিক ঝুঁকি সামলাব, যারা জীবাশ্ম জ্বালানি আয়ের ওপর নির্ভরশীল?আমরা কীভাবে শ্রমিক ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে ন্যায়সঙ্গত রূপান্তরের মাধ্যমে সহায়তা করব?এবং আমরা কীভাবে বিনিয়োগকে প্রয়োজনীয় গতি ও পরিসরে সংগঠিত করব?আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন, কপ–৩১–এর আগে আমি নেতৃবৃন্দের প্রতি এই কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহবান জানাব। কারণ, খোদ রূপান্তর এখন আর কোনো প্রশ্নের বিষয় নয়।রূপান্তর হয় সুপরিচালিত হবে, নয় বিশৃঙ্খল হবে… হয় ন্যায়সঙ্গত হবে, নয় বৈষম্যমূলক হবে… হয় স্থিতিশীলতার উৎস হবে, নয়তো আরও বিভেদের উৎস হবে।এই সিদ্ধান্তগুলো এখনো আমাদের হাতে।আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, নবায়নযোগ্য জ্বালানি কখনোই নোংরা প্রক্রিয়ার ওপর দাঁড়াতে পারে না।ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর মানে হলো, যেসব দেশ ও জনগোষ্ঠীর ভূমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ রয়েছে, তাদের অবশ্যই এর সুফল পুরোপুরি ভাগ করে নিতে হবে।উন্নয়ন ছাড়া আর কোনো উত্তোলন নয়।পঞ্চমত, মানুষ ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে জলবায়ু বিশৃঙ্খলার বর্তমান প্রভাব থেকে রক্ষা করতে আমাদের আরও অনেক বেশি কাজ করতে হবে । কারণ, পূর্ণ গতিতেও আমরা জলবায়ু পরিবর্তনকে ছাড়িয়ে যেতে পারব না।এর প্রভাব ইতিমধ্যে আমাদের সামনে স্পষ্ট; ক্রমশ তা বাড়ছে এবং বিস্তৃত হচ্ছে।একটি খরা দ্রুতই খাদ্যসংকটে পরিণত হতে পারে। একটি ঝড় ঋণসংকটে রূপ নিতে পারে।একটি তাপপ্রবাহ জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করতে পারে।অভিযোজন অপরিহার্য।অভিযোজন জীবন বাঁচায়, ঘরবাড়ি ও জনপদ সুরক্ষিত করে, অর্থনীতিকে ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করে এবং সমাজকে এক সঙ্গে ধরে রাখে।তা সত্ত্বেও অভিযোজনকে দীর্ঘদিন ধরে দেখা হয় দাতব্য হিসেবে।এটা ভুল।জলবায়ুর প্রভাবের ফলে ইতিমধ্যে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার রূপ–প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খাদ্য ও পানি ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে, সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করছে, সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে এবং ভঙ্গুরতা বাড়াচ্ছে।এই সব কিছু বিবেচনায় রেখে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্যন্ত অভিযোজনকে জাতীয় পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।আমাদের আরও কার্যকর বীমা ও ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা প্রয়োজন।প্রয়োজন এমন জরুরি ব্যবস্থা, যা যে কোনো বিপর্যয়কর পরিস্থিতির ধাক্কা মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পরিণত হওয়ার আগেই কাজ করবে।আমাদের প্রয়োজন দুর্যোগ আসার আগে আরও ভালো প্রস্তুতি নেওয়ার ব্যবস্থা; ‘সবার জন্য আগাম সতর্কতা উদ্যোগ’ সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা।উন্নত দেশগুলোকে তাদের দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে: অভিযোজন অর্থায়ন দ্বিগুণ করতে হবে এবং তা তিন গুণ করার স্পষ্ট পথনকশা তৈরি করতে হবে।এ থেকে চলে আসে ছয় নম্বর পয়েন্ট: এই সমস্ত কিছুর জন্য এমন অর্থায়ন প্রয়োজন, যা একই মাত্রা, গতি ও ন্যাযতার সঙ্গে আমাদের বর্তমানের যুগল সংকটও দাবি করছে। যে দেশগুলোর সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, আজ বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা তাদের ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে।বৈশ্বিক আথিক ব্যবস্থা ঝুঁকির অতিমূল্যায়ন করছে আর সুযোগের অবমূল্যায়ন করছে।অনেক উন্নয়নশীল দেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও স্থিতিস্থাপকতার জন্য ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে ধনী অর্থনীতির তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি খরচের মুখোমুখি হচ্ছে।নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ দেশগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিপ্লব থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে।বেশি দূরে তাকাতে হবে না; আফ্রিকা মহাদেশের দিকেই তাকান।আফ্রিকা বিশ্বের সেরা সৌর সম্পদের ৬০ শতাংশের আবাসস্থল। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ৩০ শতাংশ আফ্রিকায়। আর আফ্রিকার মানুষ মানবজাতির এক-পঞ্চমাংশ।তবু আফ্রিকা বৈশ্বিক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বিনিয়োগের মাত্র ২ শতাংশ পাচ্ছে।একই সঙ্গে ৬০০ মিলিয়নেরও বেশি আফ্রিকান এখনো বিদ্যুতের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।এটা অন্যায়; এটা আফ্রিকা ও পৃথিবীর জন্য বিশ্বের জন্য একটি সুযোগ হারানো।উন্নত দেশগুলোকে ক্ষয়ক্ষতি ও ক্ষতিপূরণের তহবিল এবং গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতিসহ সব অঙ্গীকার রক্ষা করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রতিশ্রুত ৩০০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করতে হবে; ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার সংগঠিত করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।সাহায্য কমে যাওয়া বিশ্বে আমাদের বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক ও বৃহত্তর উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবস্থার প্রভাবশালী ভূমিকা কাজে লাগাতে হবে, যাতে গ্রিড, গণপরিবহন ও পানি ব্যবস্থার মতো দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোর জন্য অর্থায়ন করা যায়।সাম্প্রতিক সংস্কার ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর ঋণদানের সক্ষমতা ৬০০-৮০০ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।ভবিষ্যতের অবকাঠামো ও জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নে তাদের অবশ্যই এই সক্ষমতা জোরালোভাবে কাজে লাগাতে হবে ।প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ৫০ বছরের অর্থায়নসহ তাদের অবশ্যই চ্যালেঞ্জের ব্যাপকতা ও সময়সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে আর্থিক উপকরণ ও নীতি–প্রক্রিয়াগুলোকে সাজিয়ে নিতে হবে। আমাদের আরও এগিয়ে যেতে হবে।সাহসী পুনঃমূলধনীকরণ এবং আরও সংস্কারের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারা বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকগুলোর ঋণদানের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।আর্থিক পরিসর যখন ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়ে আসছে, তখন প্রতিটি সরকারি ডলার আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে; আরও সৃজনশীলভাবে বেসরকারি মূলধন উন্মুক্ত করতে হবে। এর অর্থ, গ্যারান্টি, স্থানীয় মুদ্রা অর্থায়ন, মিশ্র অর্থায়ন ও অন্যান্য ঝুঁকি ভাগাভাগির উপকরণ বাড়ানো, যেন মূলধনের ব্যয় কমানো যায় এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায়—বিশেষত সেই উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে ঝুঁকি বেশি বলে মনে করা হয়।এর অর্থ হলো, উচ্চ নিঃসরণকারী খাতের ওপর সংহতি কর, জলবায়ু ঋণ-বিনিময়, কার্বন বাজারের আয় এবং দাতব্য তহবিল—এই সমস্ত অতিরিক্ত অর্থায়নের উৎস কাজে লাগানো।এর আরও অর্থ হলো, সরকারি–বেসরকারি সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমকে প্যারিস চুক্তি এবং উষ্ণায়নশীল বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে।পরিশেষে বলব, পরীক্ষাটি সহজ:জলবায়ু সংকট মোকাবিলা করতে, আরও শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির পথ খুলে দিতে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো এগিয়ে নিতে আমাদের অবশ্যই এমন গতিতে, পরিসরে এবং এমন সাশ্রয়ী মূল্যে মূলধন উন্নয়নশীল দেশগুলোর দিকে সরিয়ে নিতে হবে, যেমনটা এই সময় দাবি করছে। সাত নম্বর, এবং শেষ কথাটা হলো, আমাদের বিজ্ঞানকে রক্ষা করতে হবে, রক্ষা করতে হবে সত্যকেও।বিপর্যয় আঘাত হানার আগেই তার ঝুঁকি উপলব্ধি করার সক্ষমতা বিজ্ঞান মানবজাতিকে দিয়েছে। তবু জলবায়ু পদক্ষেপ বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতকে শক্তিশালী করতে এবং আস্থায় চির ধরানোর উদ্দেশ্য ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।আমাদের অবশ্যই বৈজ্ঞানিক স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে; তথ্যপ্রমাণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা বাড়াতে হবে;জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে;এবং নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রত্যেকে নির্ভরযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের পায়।জাতিসংঘ ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তথ্যের সততা রক্ষার জন্য বৈশ্বিক উদ্যোগ চালু করেছে।তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের সততা গুরুত্বপূর্ণ।প্রিয় বন্ধুগণ,শুরু করেছিলাম চার্লস ডিকেন্সের কথা দিয়ে, শেষ করি তাঁর কথা দিয়েই ।জলবায়ু এজেন্ডার জন্য এটা একই সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সময় এবং সবচেয়ে খারাপ সময়।সবচেয়ে খারাপ সময় এই কারণে যে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তীব্রতর হচ্ছে, শেষ সীমারেখা সামনে চলে আসছে, আর জ্বালানি সংকট জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতার গভীর ঝুঁকি উন্মোচন করেছে।আবার এটা একই সঙ্গে সবচেয়ে ভালো সময় এই কারণে যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিপ্লব ইতিমধ্যে জোরেশোরে শুরু হয়ে গেছে।এটা নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপ্লব, বিদ্যুতায়নের বিপ্লব, খরচ কমার বিপ্লব, উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাড়ার বিপ্লব এবং বিরাট সুযোগের বিপ্লব। এ এমন এক বিপ্লব, যা দেশগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা থেকে মুক্ত করতে পারে, জ্বালানির প্রবেশাধিকার বাড়াতে পারে, নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, বাতাস পরিষ্কার করতে পারে, প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার করতে পারে, এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ আমাদের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসতে পারে।বিরাট এক সুযোগ আমাদের সামনে, এবং একটা দায়িত্বও: ‘দুই সংকটের গল্প’কে একটি গল্প করে তোলার দায়িত্ব; গল্পটাকে দৃঢ়তা, ন্যায্যতা ও যৌথ অগ্রগতির গল্পে পরিণত করার দায়িত্ব।আমরা অবশেষে জীবাশ্ম জ্বালানির অধ্যায়ের অবসান ঘটাতে পারি, রচনা করতে পারি এমন একটি ভবিষ্যৎ, যা পরিচালিত হবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিয়ে এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে।এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মুহূর্ত। আমাদের সত্যের মুহূর্ত। আমাদের সুযোগের মুহূর্ত।আসুন, আমরা এই মুহূর্তটাকে কাজে লাগাই।ধন্যবাদ।
1 এর 5
প্রবন্ধ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
SWAPNO Turns Survival into a Family Enterprise
Through Strengthening Women’s Ability for Productive New Opportunities (SWAPNO), a government initiative implemented by the United Nations Development Programme (UNDP) and funded by the government of Sweden and Marico Bangladesh, what began as one woman’s fight to survive has become a thriving family enterprise in Jamalpur district of Bangladesh. Today, 40-year-old Fotikjan Begum works side by side with her elderly mother and eldest son, transforming their home into a shared space of production, learning, and income.But the journey to this point was not easy.After losing her husband, 10 years back while she was pregnant with her second child, Fotikjan was left to raise her sons alone while caring for her aging mother, with little financial security to rely on. Like many women-headed households in rural Bangladesh, she took on whatever work she could find, often unstable and poorly paid, just to keep her family afloat. Making ends meet was a daily struggle, and the future felt uncertain. Over time, Fotikjan returned to a skill she had known for years: crafting bamboo and cane products. What began as a modest effort to earn a little extra income gradually became the foundation for rebuilding her livelihood.Her turning point came when she became part of SWAPNO. Through the project, Fotikjan received training in entrepreneurship and digital business management, along with financial and equipment support. Rather than starting from scratch, she used this support to strengthen and expand what she had already begun, turning a survival strategy into a sustainable business.Today, the impact of SWAPNO extends across three generations in Fotikjan’s household.Her home has evolved into a small production hub, where bamboo baskets, trays, and sieves are crafted with care. Fotikjan leads the production process, while her mother assists with preparation and finishing. Her eldest son plays an equally important role, managing accounts and records using digital tools introduced through the project, all while balancing his studies. What was once an individual struggle is now a shared family effort, generating a steady monthly income of around BDT 15,000 (USD 123). Beyond home-based production, Fotikjan has confidently stepped into local markets, spaces where women’s presence is still uncommon in many rural areas. She regularly negotiates with buyers, takes advance orders, and travels to sell her products. Her growing confidence reflects not only improved skills, but a shift in how she sees herself: as a businesswoman and decision-maker.Looking ahead, Fotikjan has clear ambitions. She hopes to expand production, reach larger markets, and create income opportunities for others in her community. With the foundation built through SWAPNO, she sees a future that extends beyond survival.Stories like hers reflect what UNDP is working to achieve across rural Bangladesh, supporting vulnerable women with skills, confidence, and access to finance so they can move beyond short-term survival. For Bangla Click Here
1 এর 5
প্রবন্ধ
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Protecting two lives: Hepatitis C screening brings reassurance to mothers in Cox’s Bazar
During a routine antenatal visit in the Rohingya refugee camps of Cox’s Bazar, Aleya received unexpected news: she had hepatitis C. Pregnant with her first child, the diagnosis filled her with fear.“I kept thinking about my baby,” she recalled. “I was afraid something would happen to my child.”Like many women in the camps, Aleya only learned she had hepatitis C during routine antenatal care. Without early diagnosis and follow-up, the virus can be passed from mother to child during pregnancy or childbirth. Expanded screening and maternal health services are helping identify infections earlier and support women throughout pregnancy to reduce these risks.Health worker Farida Akter, a physician in Cox’s Bazar. explained Aleya’s diagnosis and reassured her that transmission was not inevitable. With regular monitoring and appropriate care, risks could be reduced.“Early screening allows us to identify infection in time and support mothers throughout pregnancy,” she said. “With continued care and safe delivery practices, we can reduce risks for newborns.”A stronger approach to maternal careAleya’s experience is becoming increasingly common as hepatitis C screening is integrated into routine maternal health services across the camps.Her care was part of a wider effort led by the Government of Bangladesh, with technical support from WHO and funding from the Government of Japan, to integrate hepatitis C services into maternal and newborn health programmes in the camps.Pregnant women are now routinely screened for hepatitis C through antenatal care services. Improved laboratory confirmation and referral systems help ensure women who test positive receive follow-up care during pregnancy and after delivery.Throughout her pregnancy, Aleya attended regular check-ups, received monitoring and was advised on nutrition, safe delivery and newborn care.“This care gave me confidence,” she said. “I felt that someone was looking after me and my baby.”When labour began, skilled midwives supported her delivery using recommended infection prevention practices. Her baby was born healthy. After birth, Aleya received counselling on infant feeding and was informed that her own treatment would begin after breastfeeding. A moment of reliefTwo months after giving birth, Aleya returned to the health facility with her baby for the child’s first hepatitis C test.“When they told me the test showed no sign of infection, I felt relief for the first time in months,” she said.Health workers explained that further follow-up testing would still be required later in childhood to confirm the child’s final status. For Aleya, however, the result marked an important milestone after months of uncertainty.Her experience reflects a broader expansion of hepatitis C screening and follow-up services across the camps, helping more women access care during pregnancy and after delivery.From March 2024 to May 2026, nearly 20 000 pregnant women in the camps had been screened for hepatitis C through antenatal care services. More than 2500 tested positive and over 1400 were confirmed to have active infections requiring continued care.“Early detection and continued care during pregnancy are essential to reducing the risk of hepatitis C transmission from mother to child,” said Dr Ahmed Jamsheed Mohamed, WHO Representative to Bangladesh. “With support from the Government of Japan, WHO is working with national authorities to expand access to screening, follow-up care and maternal health services in Cox’s Bazar.”Giving children a healthier startFor mothers like Aleya, these efforts are making a tangible difference.What began with fear ended in reassurance. Regular monitoring, skilled care and timely support helped reduce the risk of mother-to-child transmission and ensured continued follow-up care for her baby.Today, more women in Cox’s Bazar are receiving earlier testing and continued care throughout pregnancy, helping protect both mothers and newborns.For families across the camps, a simple test is bringing reassurance and giving more children the chance for a healthier beginning. For more information about this publication, please contact Terence Ngwabe Che, External Communication Officer, Cox’s Bazar Sub-Office, WHO Bangladesh, at chet@who.int
1 এর 5
প্রবন্ধ
১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রতিকূল জলবায়ুর মাঝেও খাদিজার ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠেই কাজে নেমে পড়েন খাদিজা আক্তার। সবজিক্ষেতের পরিচর্যা, গরুর দেখভাল, পুকুরের মাছকে খাবার দেওয়া—এসব কাজেই কেটে যায় তাঁর দিন। অথচ কিছুদিন আগেও পরিবারের জন্য দুবেলা খাবার জোগাড় করতেই তাঁকে হিমশিম খেতে হতো।বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে থাকেন তিনি। এ অঞ্চলে কৃষিকাজ দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মাটিতে লবণাক্ততা বাড়ছে, বৃষ্টিপাতও হচ্ছে অনিয়মিত। বন্যা ও ঘন ঘন বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায়ই ফসলের ক্ষতি হয়। এর প্রভাব পড়ে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলোর জীবনেও। তাঁর সংসারও এর ব্যতিক্রম নয়।মাত্র ১৪ বছর বয়সে বিয়ে হয় তাঁর। ছোটবেলা থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন। "অনেক দিনই বুঝতে পারতাম না, পরের বেলার খাবার কীভাবে জুটবে," সেই সময়ের কথা বলতে গিয়ে বলেন খাদিজা। "ফসল নষ্ট হয়ে গেলে বা কাজ না থাকলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যেত।" জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকার অনেক নারীর মতো তাঁরও নিয়মিত আয়ের সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। তবে তাঁর জীবনে পরিবর্তনের শুরু হয় স্থানীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে ‘স্বপ্ন’ (SWAPNO) প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার পর। স্থানীয় সরকার বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), সুইডেন সরকার এবং বেসরকারি খাতের অংশীদার ম্যারিকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের নিয়মিত কাজের সুযোগ, প্রশিক্ষণ এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়। খাদিজার জন্য এটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শের মাধ্যমে তিনি এমন কিছু কৃষি কৌশল শিখেছেন, যা পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে চাষাবাদ করতে সাহায্য করে। তিনি সবজি চাষ, গবাদিপশু পালন এবং মাছ চাষের ওপর প্রশিক্ষণ পান। পাশাপাশি শেখেন, এসব কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালনা করলে কোনো একটি খাতে ক্ষতি হলেও অন্য খাত থেকে আয় করে সেই ঘাটতি সামাল দেওয়া সম্ভব।তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন একটি সমন্বিত খামার। এখানে সবজি চাষ, গবাদিপশু পালন এবং মাছ চাষ—সবকিছুই একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোনো একটি খাত প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বাজারের দামের ওঠানামায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্য খাত থেকে আয় করে সেই ক্ষতি অনেকটাই সামলে নেওয়া যায়। বর্তমানে তাঁর এই খামার থেকে মাসে প্রায় ১৬ হাজার টাকা (প্রায় ১৩০ মার্কিন ডলার) আয় হয়। এতে তাঁর পরিবারের জন্য নিয়মিত আয়ের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস তৈরি হয়েছে।খামারের কাজ বেড়ে গেলে তিনি স্থানীয় শ্রমিকদেরও কাজে নেন। এতে তাঁর কাজের সুবিধা হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আরও কয়েকজন মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর খামার থেকে উৎপাদিত সবজি, মাছ ও দুধ স্থানীয় মানুষের খাদ্যের চাহিদা পূরণেও ভূমিকা রাখছে। সময়ের সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকলে আশপাশের মানুষও তাঁর কাছে পরামর্শ নিতে শুরু করেন। ভালো চাষাবাদ, গবাদিপশুর পরিচর্যা কিংবা নিজের আয়ের নতুন পথ তৈরি করা—এসব বিষয়ে এখন অনেকেই তাঁর পরামর্শ চান। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। এখন পরিবার ও সমাজের বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত আরও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে পারেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা এখন মেয়ে হালিমার ভবিষ্যৎ।খাদিজা বলেন, "একসময় আমি ভাবতাম, স্বপ্ন দেখার অধিকার হয়তো আমার নেই। এখন আমি নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। সামনে যত চ্যালেঞ্জই আসুক না কেন, আমি জানি আমার পরিবারের দায়িত্ব আমি নিতে পারব।"তিনি চান, হালিমা যেন পড়াশোনা শেষ করতে পারে। জীবনে এমন সব সুযোগ পাক, যা তিনি নিজে কখনো পাননি।ভবিষ্যতে তিনি খামার আরও বড় করতে চান। তাঁর আশা, এতে এলাকার আরও নারীর কাজের সুযোগ হবে। নিজের আয় করে তাঁরাও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।খাদিজার পথচলা মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যতই থাকুক না কেন, সঠিক সহায়তা আর সুযোগ পেলে মানুষ সেই প্রতিকূলতার সঙ্গেও খাপ খাইয়ে এগিয়ে যেতে পারে। আর সেখান থেকেই শুরু হতে পারে একটি পরিবারের নতুন ভবিষ্যতের গল্প।From hardship to hope, Khadija’s integrated farm is helping her family build a more resilient future.
1 এর 5
প্রবন্ধ
১২ অক্টোবর ২০২৬
তুই আমার প্রাণের বন্ধু
"ছুটাছুটি করে হাঁপিয়ে গেছিস? সুপারম্যান তো কখনো ক্লান্ত হয় না!" পাশ থেকে একজন হেসে রসিকতা করল।"সুপারম্যান ক্লান্ত হবে কেন? ও তো উড়তে পারে!" চটপট উত্তর দিল আবরার।Abrar* and Riyad* are 12.ওরা দুজন দুজনার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। একজন আরেকজনকে ছাড়া যেন কিছুই বোঝে না। সব কাজ ওরা একসাথেই করে।স্কুলে যাওয়ার সময় হলে রিয়াদ নিজে গিয়ে আবরারকে বাসা থেকে ডেকে নেয়, তারপর দুজনে একসাথে রওনা দেয়।আবরার যখন তার প্রিয় কবিতা 'আমার পণ' আবৃত্তি করে, রিয়াদ পাশে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে শোনে।রিয়াদের যখন পাঞ্জা লড়ার শখ হয়, আবরার সাথে সাথে এক হাত পেছনে দিয়ে আরেক হাত সামনে এগিয়ে দেয়।আর আবরার যখন সুপারম্যানের মতো পোজ দেয়, তখন রিয়াদ পরম যত্নে তার গলার পেছনে গামছাটা খুব ভালোভাবে বেঁধে দেয়। 'আমার পণ' কবিতাটি বাংলাদেশের তৃতীয় শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের অংশ। আবরার পড়ে তৃতীয় শ্রেণীতে, আর রিয়াদ পড়ে প্রথম শ্রেণীতে। আবরারের মুখে শুনতে শুনতে রিয়াদেরও এখন কবিতার বেশ কিছু অংশ মুখস্থ হয়ে গেছে। কবিতাটি হলো একটি শিশুর ভালো, সৎ, নিয়মানুবর্তী এবং শ্রদ্ধাশীল হওয়ার প্রতিজ্ঞার গল্প। যেখানে বড়দের কথা মেনে চলা, পারস্পরিক সম্পর্ককে ভালোবাসায় আগলে রাখা, মন দিয়ে পড়াশোনা করা এবং সবার সাথে মিলেমিশে থাকার কথা বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আবরার আর রিয়াদের জীবনটা হুট করেই ওলটপালট হয়ে যায়।স্থানীয় থানা থেকে প্রবেশন অফিসারকে জানানো হয় যে, ছোটখাটো চুরির অপরাধে দুটি শিশুকে আটকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে শিশু সুরক্ষা কর্মীরা দেরি না করে ছুটে যান থানায়।“আমরা যখন থানায় পৌঁছালাম, বাচ্চা দুটো খুব ভয়ে ছিল," বলছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের সমাজকর্মী আবদুল হাসনাত। "আমি প্রথমেই ওদের আশ্বস্ত করলাম যে ওরা এখানে নিরাপদ। ওদের বোঝালাম যে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।”Iবাংলাদেশে অপরাধের জন্য আইনি দায়বদ্ধতার সর্বনিম্ন বয়স হলো ৯ বছর। এর মানে হলো, ৯ বছরের কম বয়সী শিশুদের দ্বারা সংঘটিত যেকোনো কাজ সম্পূর্ণভাবে অপরাধমুক্ত; আর ৯ বছর বয়সী কোনো শিশু যদি অপরাধ করে, তাকে দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি করা সম্ভব। আবরার ও রিয়াদ, দুজনেরই বয়স ১২ বছর। তবে, জাতিসংঘ শিশু অধিকার কমিটির আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই বয়সটি হওয়া উচিত অন্তত ১৪ বছর। কারণ এত কম বয়সে শিশুদের অপরাধী হিসেবে গণ্য না করে, তাদের সংশোধনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া জরুরি। জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী প্রাথমিক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে।"আমরা অভিভাবকদেরও সাহস দিচ্ছিলাম," হাসনাত বলেন। "আমরা চাচ্ছিলাম ওনারা যেন বোঝেন যে, এই পরিস্থিতি ভয় বা উৎকণ্ঠা দিয়ে নয়, বরং ঠান্ডা মাথায় আদর, ভালোবাসা ও ধৈর্য দিয়ে সামলানো সম্ভব।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং শিশু বিষয়ক পুলিশ অফিসারের সাথে আলোচনার পর সবাই একমত হন যে, এই শিশুদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক আইনি ব্যবস্থা নিলে তাদের কোনো লাভ হবে না। শিশু আইন ২০১৩-এর ৪৭ ধারা অনুযায়ী, আবরার ও রিয়াদকে সতর্ক করে তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।আইন মোতাবেক এটাই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর আবরার আর রিয়াদের জীবনটা অত সহজ ছিল না। চারপাশের মানুষের কানাঘুষা আর ফিসফিসানি ওদের তাড়া করে বেড়াত। অন্য বন্ধুদের বলে দেওয়া হয়েছিল ওদের থেকে দূরে থাকতে।সমাজের এই 'কলঙ্ক' বা অপবাদ ঘুচানো একটা বাচ্চার জন্য মূল ঘটনার চেয়েও অনেক বেশি কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক হয়ে দাঁড়ায়।"একটা শিশু নিজে থেকে বদলাতে চাইলেও, চারপাশের পরিবেশ হয়তো তাকে সেই সুযোগ দিতে চায় না। কিন্তু আমরা সমাজকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যেন সবাই ওদের আর দশটা শিশুর মতনই দেখে," বলেন হাসনাত।এখানে মনে রাখা দরকার, থানায় আটকে পড়া সব শিশুর পাশে দাঁড়ানোর জন্য কিন্তু এমন সমাজকর্মী থাকে না। আবরার আর রিয়াদের ভাগ্য তাদের সহায় ছিল তখন, জীবনে তারা দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং ইউনিসেফের সহায়তায় তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়। হাসনাত নিয়মিত ওদের সাথে দেখা করে সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলিং ও পরিবারের সাথে দূরত্ব কমাতে কাজ করতে থাকেন। পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহায়তা পাওয়ায় পরিবার দুটির ওপর থেকেও চাপ কিছুটা কমে।বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৪০,০০০ শিশুর মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যার বেশির ভাগই খুব ছোটখাটো অপরাধ। অথচ পুরো দেশে প্রবেশন অফিসার আছেন মাত্র ৭০ জন! প্রশিক্ষিত সমাজকর্মীর এই তীব্র সংকটের কারণে, থানায় বিপদে পড়া অধিকাংশ শিশুই তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো মানুষ পায় না। তবে আবরার আর রিয়াদের বন্ধুত্ব দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। এখন তারা নিয়মিত স্কুলে যায়, মন ভরে খেলে, প্রাণ খুলে হাসে। কোনো কোনো দিন দুজনে একসাথে বসে কাগজের প্লেন বানায়। একজনের প্লেন অন্যজনের চেয়ে দূরে গেলে কে জিতল তা নিয়ে আবার ছোটখাটো ঝগড়া হয়ে যায়। আবার কোনো কোনো দিন ওদের খেলার ছলে পাড়ার চেনা রাস্তাগুলোই হয়ে ওঠে এক কাল্পনিক শহর, যাকে শত্রুদের হাত থেকে বাঁচাতে এই দুই বন্ধু নির্ভীক 'সুপারহিরো' সেজে ঝাঁপিয়ে পড়ে।হাসনাত এখনো নিয়মিত ওদের বাড়ি যান। যখনই প্রয়োজন হয়, ওদের সঠিক পথ দেখান আর সাহস যোগান।আপাতত, এই বয়সে ওদের যা করার কথা, ওরা ঠিক সেটাই করছে—খেলাধুলা, কল্পনা, পড়াশোনা আর মনের আনন্দে স্রেফ শিশু হয়ে বেঁচে থাকা।(গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে শিশুদের আসল নাম পরিবর্তন করা হয়েছে)
1 এর 5
প্রবন্ধ
৩০ জুন ২০২৬
দক্ষতাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা হোক সবার জন্য
বাংলাদেশের একটি কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো. জিয়াউর রহমান, যেখানে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক নারী অপ্রচলিত পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। আইএলও-সমর্থিত উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি আরও নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন।আমার নাম মো. জিয়াউর রহমান। আমি বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (TVET) খাতে কাজ করি। শিক্ষার পরিবেশে নিজেকে অনিরাপদ মনে হওয়ার অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। তাই আমার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।আমি একটি সাধারণ পরিবারে বেড়ে উঠেছি। আমার বাবা ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। তাঁর বদলিজনিত কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় পড়াশোনার সুযোগ হয়েছে।আমার জীবনের একটি ঘটনা আজও স্পষ্ট মনে আছে - স্কুলে প্রথম দিন। আমার চেয়ে শারীরিকভাবে বড় ও শক্তিশালী এক সহপাঠী আমাকে হয়রানি করেছিল। সেই ঘটনার পর আমি এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম যে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্কুলে যেতে চাইতাম না। পরিবারের দীর্ঘদিনের পরামর্শ ও উৎসাহের ফলে আমি আবার স্কুলে ফিরতে পেরেছিলাম। ঘটনাটি আমার জীবনে গভীরছাপ রেখে গেছে।"স্কুলে প্রথম দিনের সেই অভিজ্ঞতা আজও আমার মনে গেঁথে আছে। শারীরিকভাবে একজন বড় ও শক্তিশালী সহপাঠীর হয়রানির কারণে আমি দীর্ঘদিন স্কুলে যেতে ভয় পেতাম।"মো. জিয়াউর রহমান, অধ্যক্ষ, টিটিসি খুলনা আমি রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং বিষয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেছি। পরে পরিবেশ বিজ্ঞানও তড়িৎ প্রকৌশলে দুটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করি।১৯৯৯ সালে আমি কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ খাতে কর্মজীবন শুরু করি।আমাকে অনুপ্রাণিত করে এই খাতের সম্ভাবনা। আমাদের রয়েছে দক্ষ প্রকৌশলী, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো। সরকারের সহায়তা, বিভিন্ন প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা (ILO)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছি।
কর্মজীবনের শুরুতে আমি একটি পাঁচ তারকা হোটেলে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখান থেকেই জেন্ডার সমতা সম্পর্কে আমার উপলব্ধি গড়ে ওঠে।হোটেলে কাজ করার সময় আমি দেখেছি নারী ও পুরুষেরমধ্যে কোনো বৈষম্য নেই। উভয়েই সমানভাবে অবদান রাখছেন এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আমি নারীদের আরও ভালো পারফর্ম করতে দেখেছি।এই অভিজ্ঞতা আমাকে আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। ২০২৪ সালে আমি খুলনা টিটিসির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি।দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমরা একটি জেন্ডার-সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হই। তখন বুঝতে পারি, একা একজন অধ্যক্ষ হিসেবে এসব বিষয় কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।আমি প্রতিষ্ঠানে সমানুপাতিকভাবে নারী-পুরুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম। আগে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম ছিলনা, তাই আমাদের সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হয়েছে।শুরুতে যখন আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে জেন্ডার সমতা নিয়ে আলোচনা করতাম, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেন না। খুব অল্পসংখ্যক মানুষ ইতিবাচক সাড়া দিতেন।তবুও আমি বিশ্বাস করতাম, আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারব এবং নারীদের প্লাম্বিং, বৈদ্যুতিক কাজসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত দক্ষতা উন্নয়ন খাতে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে পারব।এসব পেশার শ্রমবাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং নারীদের সফলহওয়ার জন্যও এগুলো বড় সুযোগ তৈরি করে। আইএলওর সঙ্গে আমার প্রথম কাজের সুযোগ আসে ProGRESS প্রকল্পের মাধ্যমে। সেখান থেকেই আমি জেন্ডার-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্তহই। পরে Skills 21 প্রকল্পের মাধ্যমে Talent Partnership উদ্যোগের সঙ্গেও আমাদের সংযোগ তৈরি হয়।এটি অত্যন্ত ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ছিল। ProGRESS ও Talent Partnership প্রকল্প আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন গতি এনেছে এবং নতুন নতুন কোর্স চালু করতে সহায়তা করেছে।আমরা আগে থেকেই জেন্ডার সমতা নিয়ে কাজ করছিলাম, কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা ছিল বিচ্ছিন্ন ও অপরিকল্পিত। আইএলওর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে আমরা শিখেছি কীভাবে আরও সংগঠিতভাবে কাজকরতে হয় এবং এসব সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হয়।"আমরা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। তারা জানে, এই প্রতিষ্ঠানে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই।"মো. জিয়াউর রহমান, অধ্যক্ষ, টিটিসি খুলনা আমরানারী ও পুরুষ সহকর্মীদের নিয়ে একটি জেন্ডার কমিটি গঠন করেছি। প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা আলোচনা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টাকরি।প্রতিটি ওরিয়েন্টেশন সেশনে আমরা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সচেতনতাবৃদ্ধি করি। প্রথম দিনে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে সাধারণত অভিভাবকেরা আসেন, এবং আমরা সেই সুযোগে তাদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করি।আমরা তাদের জানাই যে এখানে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই এবং তাদের জন্য কী কী সুবিধা রয়েছে তাও ব্যাখ্যা করি। সম্প্রতি আমাদের জাপানি ভাষা কোর্সের নয়জন তরুণ ও পাঁচজন তরুণীকে জাপানে চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। যখন জানতে পারলাম যে তরুণীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা পৃথক ছিল না, যা যথেষ্ট নিরাপদ নয় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, তখন আমি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।রাতে আমি একজন নারী শিক্ষার্থীকে ফোন করে জানতে চাই, তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না। তার উত্তর আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।তিনি বলেছিলেন, তারা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে ঠিক ততটাই নিরাপদবোধ করছেন, যতটা নিজেদের পরিবারের ভাইদের সঙ্গে করেন।তখন আমি উপলব্ধি করি যে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা জেন্ডার বিভেদকে অতিক্রম করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।"আমি বুঝতে পেরেছিলাম, প্রশিক্ষণের সময় আমাদের শিক্ষার্থীরা জেন্ডার বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে একে অপরকে সম্মান করতে শিখেছে।"মো. জিয়াউর রহমান, অধ্যক্ষ, টিটিসি খুলনা জেন্ডার বিষয়ক কাজ করতে গিয়ে আমিও ব্যক্তিগতভাবে পরিবর্তিত হয়েছি। আগে আমি কিছুটা কঠোর স্বভাবের ছিলাম এবং আমার কথাবার্তাও অনেক সময় রূঢ় শোনাত।এখন আমি এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করি, যা বিশেষকরে নারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে। আমি এটিকে আমার জীবনের একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখি।
একসময় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে কেবল পুরুষদের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন নারী ও পুরুষ উভয়েই সব ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।আমরা স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই মানসিকতা গড়ে তুলতে পেরেছি। তারা এখন কোনো বৈষম্য ছাড়াই একসঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।যদি আমরা নারী-পুরুষের বিভেদভুলে, সবাইকে মানুষ হিসেবে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনতে পারি, তাহলে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের সমানভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।এভাবে সমাজের কেউ পিছিয়ে থাকবে না - আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারব।সংক্ষিপ্ত তথ্যProGRESS (Promoting Gender Responsive Enterprise Development and TVET Systems) হলো গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে আইএলওর একটি প্রকল্প, যা বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা, নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নকে এগিয়ে নিচ্ছে।Skills 21 হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আইএলওর একটি প্রকল্প, যা দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার মান ও প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে এবং তরুণদের শ্রমবাজারের চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।Supporting a Talent Partnership with Bangladesh প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত, যার লক্ষ্য বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরি করা।বিশ্বে প্রতি পাঁচজন কর্মরত মানুষের মধ্যে একজনেরও বেশি (২২.৮ শতাংশ বা ৭৪৩ মিলিয়ন মানুষ) কর্মজীবনে অন্তত একবার সহিংসতা বা হয়রানির শিকার হয়েছেন।আইএলওর সহায়তায় টিটিসি খুলনায় সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।আইএলও কনভেনশন ১৯০ (C190) হলো প্রথম আন্তর্জাতিক শ্রমমান, যা সহিংসতা ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশকে সবার অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।প্রতি বছর ২১ জুন কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৯০ গৃহীত হওয়ার বার্ষিকী পালন করা হয়। এটি ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে গৃহীত হয়েছিল। মো. জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের খুলনা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)-এর অধ্যক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি কানাডার অর্থায়নে আইএলওর ProGRESS প্রকল্প এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে Skills 21 ও Talent Partnership প্রকল্পের সহায়তা পেয়েছে।
কর্মজীবনের শুরুতে আমি একটি পাঁচ তারকা হোটেলে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলাম। সেখান থেকেই জেন্ডার সমতা সম্পর্কে আমার উপলব্ধি গড়ে ওঠে।হোটেলে কাজ করার সময় আমি দেখেছি নারী ও পুরুষেরমধ্যে কোনো বৈষম্য নেই। উভয়েই সমানভাবে অবদান রাখছেন এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই আমি নারীদের আরও ভালো পারফর্ম করতে দেখেছি।এই অভিজ্ঞতা আমাকে আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জেন্ডার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছে। ২০২৪ সালে আমি খুলনা টিটিসির অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করি।দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আমরা একটি জেন্ডার-সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হই। তখন বুঝতে পারি, একা একজন অধ্যক্ষ হিসেবে এসব বিষয় কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।আমি প্রতিষ্ঠানে সমানুপাতিকভাবে নারী-পুরুষের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম। আগে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম ছিলনা, তাই আমাদের সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হয়েছে।শুরুতে যখন আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে জেন্ডার সমতা নিয়ে আলোচনা করতাম, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিতেন না। খুব অল্পসংখ্যক মানুষ ইতিবাচক সাড়া দিতেন।তবুও আমি বিশ্বাস করতাম, আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকলে আমরা এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারব এবং নারীদের প্লাম্বিং, বৈদ্যুতিক কাজসহ বিভিন্ন অপ্রচলিত দক্ষতা উন্নয়ন খাতে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতে পারব।এসব পেশার শ্রমবাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং নারীদের সফলহওয়ার জন্যও এগুলো বড় সুযোগ তৈরি করে। আইএলওর সঙ্গে আমার প্রথম কাজের সুযোগ আসে ProGRESS প্রকল্পের মাধ্যমে। সেখান থেকেই আমি জেন্ডার-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্তহই। পরে Skills 21 প্রকল্পের মাধ্যমে Talent Partnership উদ্যোগের সঙ্গেও আমাদের সংযোগ তৈরি হয়।এটি অত্যন্ত ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ছিল। ProGRESS ও Talent Partnership প্রকল্প আমাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নতুন গতি এনেছে এবং নতুন নতুন কোর্স চালু করতে সহায়তা করেছে।আমরা আগে থেকেই জেন্ডার সমতা নিয়ে কাজ করছিলাম, কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা ছিল বিচ্ছিন্ন ও অপরিকল্পিত। আইএলওর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে আমরা শিখেছি কীভাবে আরও সংগঠিতভাবে কাজকরতে হয় এবং এসব সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে হয়।"আমরা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। তারা জানে, এই প্রতিষ্ঠানে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই।"মো. জিয়াউর রহমান, অধ্যক্ষ, টিটিসি খুলনা আমরানারী ও পুরুষ সহকর্মীদের নিয়ে একটি জেন্ডার কমিটি গঠন করেছি। প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা আলোচনা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তা সমাধানের চেষ্টাকরি।প্রতিটি ওরিয়েন্টেশন সেশনে আমরা প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সচেতনতাবৃদ্ধি করি। প্রথম দিনে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে সাধারণত অভিভাবকেরা আসেন, এবং আমরা সেই সুযোগে তাদের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করি।আমরা তাদের জানাই যে এখানে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই এবং তাদের জন্য কী কী সুবিধা রয়েছে তাও ব্যাখ্যা করি। সম্প্রতি আমাদের জাপানি ভাষা কোর্সের নয়জন তরুণ ও পাঁচজন তরুণীকে জাপানে চাকরির সাক্ষাৎকারের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। যখন জানতে পারলাম যে তরুণীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা পৃথক ছিল না, যা যথেষ্ট নিরাপদ নয় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, তখন আমি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ি।রাতে আমি একজন নারী শিক্ষার্থীকে ফোন করে জানতে চাই, তারা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কি না। তার উত্তর আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল।তিনি বলেছিলেন, তারা তাদের পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে ঠিক ততটাই নিরাপদবোধ করছেন, যতটা নিজেদের পরিবারের ভাইদের সঙ্গে করেন।তখন আমি উপলব্ধি করি যে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা জেন্ডার বিভেদকে অতিক্রম করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাও আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।"আমি বুঝতে পেরেছিলাম, প্রশিক্ষণের সময় আমাদের শিক্ষার্থীরা জেন্ডার বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে একে অপরকে সম্মান করতে শিখেছে।"মো. জিয়াউর রহমান, অধ্যক্ষ, টিটিসি খুলনা জেন্ডার বিষয়ক কাজ করতে গিয়ে আমিও ব্যক্তিগতভাবে পরিবর্তিত হয়েছি। আগে আমি কিছুটা কঠোর স্বভাবের ছিলাম এবং আমার কথাবার্তাও অনেক সময় রূঢ় শোনাত।এখন আমি এমনভাবে নিজেকে উপস্থাপন করি, যা বিশেষকরে নারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে। আমি এটিকে আমার জীবনের একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখি।
একসময় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে কেবল পুরুষদের জন্য উপযুক্ত স্থান হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন নারী ও পুরুষ উভয়েই সব ধরনের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।আমরা স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এই মানসিকতা গড়ে তুলতে পেরেছি। তারা এখন কোনো বৈষম্য ছাড়াই একসঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।যদি আমরা নারী-পুরুষের বিভেদভুলে, সবাইকে মানুষ হিসেবে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আনতে পারি, তাহলে সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের সমানভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।এভাবে সমাজের কেউ পিছিয়ে থাকবে না - আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারব।সংক্ষিপ্ত তথ্যProGRESS (Promoting Gender Responsive Enterprise Development and TVET Systems) হলো গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়নে আইএলওর একটি প্রকল্প, যা বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা, নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নকে এগিয়ে নিচ্ছে।Skills 21 হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আইএলওর একটি প্রকল্প, যা দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থার মান ও প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে এবং তরুণদের শ্রমবাজারের চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে।Supporting a Talent Partnership with Bangladesh প্রকল্পটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত, যার লক্ষ্য বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ তৈরি করা।বিশ্বে প্রতি পাঁচজন কর্মরত মানুষের মধ্যে একজনেরও বেশি (২২.৮ শতাংশ বা ৭৪৩ মিলিয়ন মানুষ) কর্মজীবনে অন্তত একবার সহিংসতা বা হয়রানির শিকার হয়েছেন।আইএলওর সহায়তায় টিটিসি খুলনায় সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।আইএলও কনভেনশন ১৯০ (C190) হলো প্রথম আন্তর্জাতিক শ্রমমান, যা সহিংসতা ও হয়রানিমুক্ত কর্মপরিবেশকে সবার অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।প্রতি বছর ২১ জুন কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১৯০ গৃহীত হওয়ার বার্ষিকী পালন করা হয়। এটি ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে গৃহীত হয়েছিল। মো. জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের খুলনা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি)-এর অধ্যক্ষ। প্রতিষ্ঠানটি কানাডার অর্থায়নে আইএলওর ProGRESS প্রকল্প এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে Skills 21 ও Talent Partnership প্রকল্পের সহায়তা পেয়েছে।
1 এর 5
প্রবন্ধ
২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
বিশ্ব সামাজিক ন্যায়বিচার দিবস, আমাদের শোভন কাজের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়
প্রতিবছর ২০ ফেব্রুয়ারি ‘বিশ্ব সামাজিক ন্যায়বিচার দিবস’ আমাদের ব্যক্তিগতভাবে ন্যায়সঙ্গত হওয়া এবং একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজ তৈরির গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এটি স্পষ্ট যে চলমান অন্যায়, কাজের অনিশ্চয়তা এবং সুযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান অসাম্য বৈশ্বিক মনোযোগের দাবি রাখে। সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরত্ত্ব বাড়ছে, এটিকে একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা এবং স্থায়ী শান্তি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি অর্জন করেছে, যার পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ছিল দেশের শ্রমশক্তি। ২০২২ সালের বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে, জনসংখ্যা অনুযায়ী বাংলাদেশে শ্রমশক্তির অংশগ্রহণের হার মোট ৬১.২ শতাংশ (পুরুষদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং মহিলাদের জন্য ৪২.৮ শতাংশ), যা ২০১০ সাল থেকে শ্রমক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণে (৩৬ শতাংশ) উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে। বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক হবার সাথে সাথে দেশের শ্রমশক্তি উচ্চ স্তরের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতার উন্নয়ন এবং উচ্চ পারিশ্রমিকসহ শোভন কাজের সুফলগুলো ভোগ করতে পারবে। বাংলাদেশ তার শ্রম খাতকে পুনর্গঠনের জন্য শোভন কাজের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায় এবং অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ৩৬টি আইএলও কনভেনশন এবং ১টি প্রটোকল অনুমোদন করেছে; শুধুমাত্র পেশাগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কনভেনশনগুলো ব্যতিরেকে দশটি মৌলিক কনভেনশনের মধ্যে আটটি অনুমোদন করেছে। উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে C138 অনুমোদন, ২০২২ সালের মার্চে Minimum Wage Convention 1973 অনুমোদন, এবং পরবর্তীতে কর্মসংস্থানের জন্য সর্বনিম্ন বয়স হিসাবে ১৪ বছর নির্দিষ্টকরণ। বাংলাদেশ মার্চ ২০০১-এ C182, Worst Forms of Child Labour Convention, 1999 অনুমোদন করে এবং তারপর থেকে ৪৩টি সেক্টরে বিপজ্জনক শিশুশ্রমের তালিকা প্রকাশ ও আপডেট করে। অধিকন্তু, দেশের সরকার জুলাই ২০২৩ সালে, National Child Labour Survey 2022 -এর উপর অস্থায়ী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যা বিপজ্জনক কাজে নিযুক্ত শিশুদের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস রেকর্ড করেছে। বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে Forced Labour Convention No. 29 এবং No. 105 অনুস্বাক্ষর করেছে। ২০২২ সালের জানুয়ারীতে বাংলাদেশ ২০১৪ সালের Forced Labour Convention, 1930-এর প্রোটোকল অনুমোদন করে। সরকার, তার সামাজিক অংশীদার - শ্রমিক এবং নিয়োগকর্তাদের সংগঠনগুলোর সহযোগিতায়, সক্রিয়ভাবে শ্রম খাতে সংস্কারের কাজ করছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শ্রম খাতে (২০২১-২০২৬) শ্রম আইন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন, শ্রম পরিদর্শন এবং ইউনিয়ন-বিরোধী বৈষম্য মোকাবেলা করার জন্য সরকারের পক্ষ হতে ILO Governing Body -কে একটি Roadmap of Actions এবং একটি জাতীয় কর্ম পরিকল্পনা জমা দেয়া হয়৷ এই উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য সমতা, শ্রম অধিকার, জেন্ডার সংবেদনশীল ক্ষমতায়ন এবং অংশগ্রহণ, যা সামাজিক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তদুপরি, সরকার ILO এবং GIZ-এর সহযোগিতায় তৈরি পোশাক খাতে কর্মক্ষেত্রে আঘাত ও মৃত্যুর জন্য শ্রমিক এবং তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য একটি কর্মসংস্থান ইনজুরি স্কিমের কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে। সরকার পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনাও (২০২১-২০৩০) তৈরি করেছে এবং কর্মক্ষেত্রে একটি প্রতিরোধমূলক নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য National Occupational Safety and Health Training and Research Institute (NOSHTRI) নামক প্রতিষ্ঠান প্রক্রিয়াধীন আছে। যখন শ্রমিকদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ, সমান আচরণ ও সুযোগ, শ্রম অধিকার এবং ন্যায্য বেতন প্রদান করা হয়, তখন তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মর্যাদা সমুন্নত থাকে। সামাজিক ন্যায়বিচারের অগ্রগতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের জন্য, শ্রমখাতে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের অধিকারের প্রচারের পাশাপাশি তাদের দক্ষতা এবং নতুন প্রযুক্তিতে পুনঃদক্ষতা প্রয়োজন। এই প্রচেষ্টাগুলো আরও অবহিত, দক্ষ এবং ক্ষমতায়িত কর্মশক্তিতে অবদান রাখবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, আদিবাসী, অভিবাসী এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরাসহ দুর্বল বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে গৃহীত নীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুব বেকারত্ব মোকাবেলা করা এবং অংশীদারদের মধ্যে মতের আদান-প্রদান উত্সাহিত করার মাধ্যমে একটি অধিকতর ন্যায়সঙ্গত শ্রম খাতের ভিত্তি আরো শক্তিশালী হবে। সর্বোত্তম অনুশীলনসমূহের বিনিময় এবং ন্যায্য শ্রম অনুশীলনের জন্য বিশ্বমান প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গতবছর নভেম্বরে জেনেভায় অনুষ্ঠিত ILO World of Work Summit-এ ILO Governing Body সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য একটি গ্লোবাল কোয়ালিশন গঠনের অনুমোদন দেয়, যে কোয়ালিশন কে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ অনেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং জাতিসংঘসহ অন্যান্য বিশ্ব নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ সরকার বৈষম্য মোকাবেলা, সহযোগিতা, ন্যায্যতা, অন্তর্ভুক্তি, ত্রিপক্ষীয়তা এবং যুব ক্ষমতায়নের উপর জোর দেওয়াসহ সামাজিক ন্যায়বিচার বাস্তবায়িত করার জন্য পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে। The Global Coalition for Social Justice -এর লক্ষ্য হল সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাবকে জরুরীভাবে মোকাবেলা করতে এবং শোভন কাজের এজেন্ডাকে ত্বরান্বিত করার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করা। বিশ্বব্যাপী সংহতি, নীতির সমন্বয় এবং ভিন্নধর্মী অংশীজনদের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে শক্তিশালী, টেকসই, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা এর মূল লক্ষ্য। Bangladesh Employers’ Federation (BEF) এবং Bangladesh Knitwear Manufacturers and Exporters Association (BKMEA)- সহ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত এই কোয়ালিশনের সদস্য সংখ্যা ১৪১। গ্লোবাল কোয়ালিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ টেকসই কাজের অনুশীলন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নীতিসমূহ গ্রহণ ও প্রচারের ক্ষেত্রে জাতীয় এবং বৈশ্বিক উভয় পর্যায়ে বাংলাদেশকে শীর্ষস্থানে রাখে। এই অংশীদারিত্ব একটি ন্যায়সঙ্গত এবং সম-অধিকারসম্পন্ন সমাজ গঠনে বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গিকারের বহিঃপ্রকাশ।
1 এর 5
প্রবন্ধ
১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
মনিকার উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন যেভাবে ১২ বছরের দিঘীর জীবন বদলে দিল
নওগাঁ, বাংলাদেশ
“বাবা, তাড়াতাড়ি চলো!” দিঘী তার বাবা মো. মাজেদ আলী মণ্ডলকে উদ্দেশ্য করে বলল। বাবা-মেয়ে দুজনে মিলে যাচ্ছিলো ইউনিসেফের সহায়তায় মোসাম্মৎ মনিকা বেগমের চালু করা ল্যাট্রিনের দোকানে। দিঘীদের গ্রামে এই দোকানেই কেবল ল্যাট্রিন পাওয়া যায়।
মনিকাকে দেখেই যেন দীঘি আরও জোরে হাঁটা শুরু করল, তার চোখ-মুখও খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। শান্ত স্বভাবের দিঘী তার উত্তেজনা যেন আর ধরে রাখতে পারছিল না। গত ছয় মাস ধরে সে এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছে এবং বাবা-মায়ের কাছে বার বার একটি নতুন ল্যাট্রিনের জন্য আবদার করেছে। বাড়িতে একটি ভালো ল্যাট্রিন হলে তার আর বাইরে ল্যাট্রিন খুঁজে বেড়ানো লাগবে না।
“আমাদের আগের ল্যাট্রিনটা ভালো ছিল না। সেখানে দুর্গন্ধ হত
এবং অনেক পোকামাকড় আসত”, ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া দীঘি বলল
রাপত্তাহীনতায় দিঘী
দিঘী কয়েক মাস ধরে স্যানিটেশন ব্যবসার দোকানটিতে যাওয়া-আসা করছিলো। সেখানে মনিকা ও তাঁর স্বামী মো. হাতিম সারি সারি করে নিজেদের তৈরি করা পিট ল্যাট্রিন১ সাজিয়ে রেখেছে। সেগুলো ছিল নানা রঙের ও নানা ধরনের। দোকানটি গ্রামের মূল সড়কের সামনে। গাছপালায় ঘেরা ওই জায়গায় শিশুদের কোলাহল শোনা যায়। প্রতিদিন এখান দিয়ে হেঁটে যায় দিঘী। সে জানত, তার গ্রামের অন্যান্য পরিবার মনিকার কাছ থেকে ল্যাট্রিন কিনছে। দিঘী বলে, “অন্যান্য বাড়িতে আমি ভালো ল্যাট্রিন দেখেছি। আমাদের স্কুলে শিক্ষকেরাও বলতেন যে, আমাদের পরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার এবং টয়লেট কেন্দ্রিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (হাইজিন) মেনে চলা উচিত।”
ল্যাট্রিন ব্যবহারের পর দিঘী খুব ভালোভাবে সাবান দিয়ে তার হাতদুটো ধুয়ে নিচ্ছে। সে স্যাটোট্যাপ ব্যবহার করছে। এটা ইউনিসেফের সহায়তায় দেওয়া একটি উদ্ভাবনীমূলক হাত ধোয়ার ডিভাইস।
দিঘী দীর্ঘ সময় ধরে অস্বস্তির সাথে তাদের বাড়ির টয়লেট ব্যবহার করে আসছে। তাদের ঘরটি ছোট। সেটার কাছেই দুর্গন্ধময় ল্যাট্রিন ছিল, যেখানে পোকামাকড় থাকত। এই ল্যাট্রিন ছিল তাদের খোলা রান্না ঘর থেকে দুই পা দূরে। ওই রান্না ঘরেই মাকে খাবার তৈরিতে সাহায্য করত মেয়েটি।
একটি পরিষ্কার টয়লেট পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে দিঘী তার মা-বাবার মানসিকতায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়। সে তাদেরকে সবভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে। এমনকি নতুন টয়লেট না হলে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ারও হুমকি দেয়।
এরপরেও দিঘীর বাবা-মা তার কথায় রাজি হচ্ছিল না। এটা করা ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন তারা।
ওই ঘটনা স্মরণ করে দিঘীর বাবা মাজেদ বলেন, “ওই সময় আমাদের কাছে টাকাও ছিল না। একটি ভালো ল্যাট্রিনের সুবিধাগুলো কী কী, তাও আমরা বুঝতাম না।” গ্রামের বাজারে শাকসবজি বিক্রি করা মাজেদই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
দিঘীর মা আমিনা বিবি ওই সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, “তখন কিন্তু দিঘী নিয়মিত অসুস্থ হয়ে পড়ত। ডায়রিয়ার মতো পেটের সমস্যা লেগেই থাকত।”
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে খোলা জায়গায় মলত্যাগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট এখনো অনেকের নাগালের বাইরে, বিশেষ করে দিঘীদের মতো স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্য। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা ভাঙাচোরা একটি ল্যাট্রিন ব্যবহার করেন। তাতে শিশুরা সরাসরি মানুষের মলমূত্র, দূষিত পানির সংস্পর্শে আসে এবং এভাবে রোগ-বালাই ছড়িয়ে পড়ে।
একটি নতুন ল্যাট্রিন কেনা তাদের জন্য অনেকগুলো টাকার ব্যাপার হলেও আমিনা ও মাজেদ মেয়ে দিঘীর ভালোটাই চান। মেয়ের জেদের কাছে হার মানার পরেও তারা মনিকার কাছে পরামর্শ চাইলে তিনিও আশ্বস্ত করেন যে, দিঘী ঠিকটাই বলছে। তাদের মানসম্মত স্যানিটেশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। এটা শুধু তাদের মেয়ের স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, তার নিরাপত্তা, মানসিকভাবে ভালো থাকা ও শিক্ষার জন্যও দরকার।
একজন নারী উদ্যোক্তা, যিনি নিজের গ্রামকে বদলে দিয়েছেন
দোকানে মনিকা নিজেদের তৈরি করা কংক্রিটের রিংগুলো পরিষ্কার করছেন। এসব কংক্রিটের রিং মাটি খুঁড়ে তৈরি করা গর্তে বসানো হয়, মানুষের ত্যাগ করা মলমূত্র তার ভেতরে ধরে রাখার জন্য।সৌজন্যে: ইউনিসেফ বাংলাদেশ/২০২৩/হিমু
৪০ বছর বয়সী মনিকা একজন নারী উদ্যোক্তা, যিনি নিজের ভাগ্য বদলেছেন; দিঘীর গ্রামে মনিকা ভালোভাবেই পরিচিত। মনিকার রয়েছে দারুণ উপস্থিত বুদ্ধি। তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং সর্বোপরি কঠিন সময়কে চমৎকারভাবে সামলে নিতে সক্ষম।
প্রথম দিকে তার ব্যবসা মোটেও সহজ ছিল না। মনিকা উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বিরাট ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
সে সময়ের কথা মনে করে মনিকা বলেন, “তখন আমি খুব গরিব ছিলাম । দেখেছিলাম লোকজন এসব জিনিসি বিক্রি করে। ব্যবসা শুরু করার টাকা জোগাড় করার জন্য আমরা বাড়ির গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি বিক্রি করে দিই। ঘরে বসে ল্যাট্রিন তৈরি করার জন্য আমি কিছু উপকরণ সংগ্রহ করি, কিছু কিনে আনি। প্রথম দিকে তেমন কোন বিক্রিই ছিল না।”
মনিকা তার কাছে থাকা সব টাকা-পয়সা নিয়ে, মনপ্রাণ দিয়ে এ কাজে লেগে পড়েন। কয়েকবার স্বামীকে ল্যাট্রিন বানাতে দেখার পর নিজের হাতেই তা বানাতে শুরু করেন। শুরুতে, মনিকা প্রত্যাশানুযায়ী ফল পাচ্ছিলেন না; এরপর তিনি ইউনিসেফের সহায়তাপুষ্ট সান মার্ক সিস্টেমস ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্টে যোগ দেন, তারপর থেকে তার ব্যবসা বাড়তে থাকে।
মনিকা বলেন, “যখন ইউনিসেফ ও এর পার্টনার (অংশীজন) আইডিই এর থেকে প্রশিক্ষণ নিলাম, তারপর থেকে ল্যাট্রিন বানানো শুরু করে সফলতা পেতে থাকলাম।” তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণে আমি শিখলাম যে, অপরিষ্কার টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়, সেখানে পোকামাকড় আসে এবং রোগ-বালাই তৈরি হয়। তাই আমরা ঢাকনাসমেত টয়লেট তৈরি করতে শুরু করলাম। এই পিট টয়লেট কোথায় কীভাবে বসাতে হয়, সে বিষয়েও আমরা জানলাম। কীভাবে এই টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ রাখতে হয়- এমন অনেক কিছু আমরা শিখলাম।”
ইউনিসেফ অংশীজনদের নিয়ে বাংলাদেশের ২৫টি জেলায় মনিকার মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রেখেছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন উপকৃত হচ্ছে, তেমনি কমিউনিটিতে নিরাপদ স্যানিটেশন চর্চা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন স্যানিটেশন পণ্যের চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এর ফলে শিশু ও তাদের পরিবারগুলো উপকৃত হচ্ছে। নওগাঁয় মনিকার ব্যবসার ফলে তার কমিউনিটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ল্যাট্রিন সম্পর্কে সচেতন হয়েছে; তা দিঘীর জীবনেও উন্নয়ন ঘটিয়েছে। মনিকা গর্বের সঙ্গে বলেন, “আমি একজন নারী হয়ে ব্যবসা করছি। এটা নিয়ে লোকজন অনেক কথা বলতে পারে। কিন্তু আমার ব্যবসায় অনেক মানুষের মঙ্গল হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এখন আর ওই প্রকল্প থেকে সহায়তা না পেলেও আমি এই ব্যবসা চালিয়ে নিতে এবং এটা আরও বড় করতে পারব বলে আত্মবিশ্বাসী।”
বার হাত ধরে দিঘী খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রতিটি পিট ল্যাট্রিন পরীক্ষা করে। মাঝে মাঝে সে তার বাদামী রঙের স্যান্ডেলগুলো খুলে খুব সতর্কভাবে প্রতিটি ল্যাট্রিনের ওপর দিয়ে হাঁটছিল। শেষ পর্যন্ত সে গোলাপী রঙের মেঝেতে সাদা টাইলস বসানো একটি ল্যাট্রিন পছন্দ করে।
দিঘী বলে, “নতুন ল্যাট্রিন দেখে আমার খুবই আনন্দ হচ্ছিল। কারণ আমি নিজে দোকানে গিয়ে এটা পছন্দ করেছিলাম। এটায় টাইলস আছে এবং এটা রঙিনও।”
এখন বাড়িতে দিঘী নিরাপদে ও স্বস্তির সাথে মানসম্মত টয়লেট ব্যবহার করতে পারে। এখন আর পরিষ্কার টয়লেট খুঁজতে তাকে একা বাইরে যেতে হয় না। তার এখন আর আগের মতো অসহায় লাগে না; দিঘী আর আগের মতো ঘন ঘন অসুস্থও হয়ে পড়ে না। এখন দিঘী প্রতিদিন স্কুলে যায়। নিজের লক্ষ্য অর্জনে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারে।
মো. মাজেদ আলী মণ্ডল তার এক সন্তানকে হারিয়েছে। দিঘী এখন তার নিজের ও তার বাবা-মার স্বপ্ন পূরণে এগোচ্ছে।
“ভবিষ্যতে আমি একজন চিকিৎসক হতে চাই,” জানায় দিঘী; ক্লাসে এবার দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে সে।
বাংলাদেশে শিশুদের উন্নয়নে অব্যাহত সহায়তা ও আসামান্য অবদানের জন্য সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে ইউনিসেফ।
1 এর 5
প্রেস রিলিজ
৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা রোধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও ইউএন উইমেনের যৌথ উদ্যোগ
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং ইউএন উইমেন আজ ঢাকার ইউজিসি অডিটোরিয়ামে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ইউএন উইমেনের “Ending Sexual and Gender-Based Violence in Public Spaces, Workplaces and Tertiary Educational Settings in Bangladesh (ESGBV )” প্রকল্পের আওতায় এই অংশীদারিত্ব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় কাজ করবে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক ন্যাশনাল ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট ওমেন প্রিভ্যালেন্স সার্ভে ২০২৪ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ১৬ শতাংশ গত এক বছরে প্রযুক্তি-সুবিধাভিত্তিক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার (Technology-Facilitated Gender-Based Violence) শিকার হয়েছেন।অনুষ্ঠানে ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, পাঁচটি অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রতিনিধিরা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএন উইমেন এবং অন্যান্য অংশীজন উপস্থিত ছিলেন। তারা নিরাপদ ও জেন্ডার-সংবেদনশীল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। এই সহযোগিতার আওতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং এআইইউবিতে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা হবে।ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। “ভয়, হয়রানি ও বৈষম্যের পরিবেশে প্রকৃত শিক্ষা ও উৎকর্ষতা অর্জন সম্ভব নয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এমন জায়গা হওয়া উচিত, যেখানে শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ভয় ছাড়াই নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে, সম্ভাবনাকে বিকশিত করতে এবং মুক্তভাবে নিজেদের মেধা প্রকাশ করতে পারে,” তিনি বলেন।ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন এবং পলিটিক্যাল, ইকোনমিক, ট্রেড, প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন সেকশনের প্রধান বাইবা জারিনা বলেন “আজকের এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি নীতিমালা ও প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবে কাজে পরিণত করতে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের এই বিশ্বাস দিতে সাহায্য করবে যে তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শোনা হবে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এখান থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” ইউএন উইমেন বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং নারী ও প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন,“ তরুণী ও কিশোরীদের শিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হয়রানি ও সহিংসতার ভয় ছাড়াই যাতে নারীরা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশ করতে পারে, সে জন্য নিরাপদ শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব,” বলেছেন গীতাঞ্জলি সিং।অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শ্রবণা দত্ত পরিচালিত এক আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য[TK1] এবং প্রতিনিধিগণ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।ইএসজিবিভি প্রকল্পের আওতায় ইউএন উইমেন ও এর অংশীদার আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে অভিযোগ কমিটি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অভিযোগ গ্রহণ ও রেফারেল ব্যবস্থা উন্নত করা এবং শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হবে। এই উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে, যাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীরা ভয়মুক্তভাবে শিক্ষা, কাজ ও ক্যাম্পাস কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন টাস্ক টিমের আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম; খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মেহেরুন নেছা তাসলিমা খাতুন; বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শওকত আলী; এআইইউবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এবং প্রতিনিধি ফারহীন হাসান ও নাজিয়া ফারহানা; এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. আর. কবির ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. শরীফা সুলতানা। ইউএন উইমেন: ইউএন উইমেন হলো জাতিসংঘের জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে নিবেদিত সংস্থা। নারী ও কিশোরীদের অধিকার ও ক্ষমতায়নের বৈশ্বিক অগ্রদূত হিসেবে ইউএন উইমেন বিশ্বব্যাপী তাদের চাহিদা পূরণ এবং সমতার লক্ষ্যে অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে কাজ করে।বাংলাদেশে ইউএন উইমেন সরকারকে জেন্ডার সমতা ও নারীর মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করে। সংস্থাটি সরকার, সুশীল সমাজ, নারী অধিকার সংগঠন, যুবসমাজ, জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নকে এগিয়ে নিতে।আরও জানতে ভিজিট করুন: https://asiapacific.unwomen.org/en/countries/bangladeshইএসজিবিভি প্রকল্প : Ending Sexual and Gender-Based Violence in Public Spaces, Workplaces and Tertiary Educational Settings in Bangladesh (ESGBV) প্রকল্পের লক্ষ্য হলো জনপরিসর, কর্মক্ষেত্র এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্প নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য সহায়তা ও প্রতিকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। গণমাধ্যমের জন্য যোগাযোগশারারাত ইসলাম; কমিউনিকেশন্স অ্যানালিষ্ট, ইউ এন উইমেন
ই-মেইল: shararat.islam@unwomen.org
ই-মেইল: shararat.islam@unwomen.org
1 এর 5
প্রেস রিলিজ
১৫ জুন ২০২৬
২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের অঙ্গীকার করায় বাংলাদেশ সরকারকে ইউএনএফপিএ বাংলাদেশ এর অভিনন্দন ।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ২৫,০০০ মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে লিসবনে অনুষ্ঠিত মিডওয়াইফ কংগ্রেসে বিশ্ব স্বাস্থ্য অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। গত ১৪ জুন আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ সংঘের (আইসিএম) ৩৪তম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং ইউএনএফপিএ-এর নির্বাহী পরিচালক ডিয়েন কেইটা বাংলাদেশের মিডওয়াইফ কর্মশক্তিতে স্মরনকালের সবচেয়ে বড় এই বিনিয়োগ অঙ্গীকারটির কথা ব্যক্ত করেন। কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, ইউএনএফপিএ-এর নির্বাহী পরিচালক পেশাদার মিডওয়াইফ বাহিনী গঠনে বাংলাদেশকে একটি ‘পথপ্রদর্শক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বৈশ্বিক মিডওয়াইফারি অ্যাক্সিলারেটরে নেতৃত্বদানকারী হাতেগোনা কয়েকটি সেরা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম বলে উল্লেখ করেন। লিসবনে এই অঙ্গীকার ঘোষণা করে মিস কেইটা বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বকে দেখাচ্ছে যে মিডওয়াইফদের পেছনে বিনিয়োগ করা মানেই জীবন রক্ষায় বিনিয়োগ করা।” তিনি আরও বলেন, “এই যুগান্তকারী অঙ্গীকার একইসাথে একটি শক্তিশালী বার্তা, আর তা হল মাতৃমৃত্যু অনিবার্য নয়।”এই অঙ্গীকারের মূল্য বছরে ৪,০০০ জীবন — অর্থাৎ বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য কারণে ৪০০০ নারী মারা যান। ইতোমধ্যে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের প্রতি ১,০০,০০০ জীবিত জন্মে ৫৭৪ জন মাতৃমৃত্যু থেকে কমিয়ে বর্তমানে ১৩৬ জনে নেমেছে। তবে এখনও ৩০ শতাংশ প্রসব বাড়িতেই হয় এবং দেশের ৬,২১৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বর্তমানে মাত্র ২,৫৫৭ জন মিডয়াওইফ কর্মরত আছেন।অপরিহার্য যৌন, প্রজনন, মাতৃ, নবজাতক ও কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মিডওয়াইফরা প্রদান করতে পারেন। পাশাপাশি দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু প্রতিরোধ করতে পারেন। এর ফলে মিডওয়াইফরা প্রতি ১ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে ১৬ মার্কিন ডলার পর্যন্ত সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারেন।লিসবনে প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ড. হায়দার এই অঙ্গীকারকে বাংলাদেশের প্রতিরোধ-কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে বৃহত্তর পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরেন, যা জটিলতা দেখা দেওয়ার আগেই মায়েদের সহায়তা করে এবং প্রতিটি শিশুর জন্য জীবনের একটি সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে মিডওয়াইফদের রেখে তিনি বলেন: “যখন আমরা মিডওয়াইফদের ক্ষমতায়ন করি, তখন আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন করি। যখন আমরা নারীদের ক্ষমতায়ন করি, তখন আমরা পরিবারকে শক্তিশালী করি। আর যখন আমরা পরিবারকে শক্তিশালী করি, তখন আমরা জাতিকেও আরও শক্তিশালী করি।” বাংলাদেশে ইউএনএফপিএ-এর প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং বলেন, “বাংলাদেশ মায়েদের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং এই সপ্তাহে লিসবনে তা রক্ষা করেছে এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। আমরা সরকারকে এমন একটি অঙ্গীকারের জন্য অভিনন্দন জানাই যা লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য সন্তান জন্মদানের অর্থ বদলে দেবে। বাংলাদেশের মিডওয়াইফসেবার যাত্রাপথে পাশে থাকতে পেরে ইউএনএফপিএ সম্মানিত বোধ করছে এবং আগামীতে আগত ২৫,০০০ মিডওয়াইফের প্রত্যেকের পাশে আমরা থাকব।”আগামী চার বছর ধরে পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেখানে দক্ষ সেবার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। ২৫,০০০ মিডওয়াইফ কর্মরত থাকায়, প্রতি ১,০০,০০০ জীবিত জন্মে ৭০টি নিচে মাতৃমৃত্যু নামিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, যা একসময় অকল্পনীয় ছিল, তা বাংলাদেশের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।সম্পাদকদের জন্য টীকাবাংলাদেশ মিডওয়াইফারি অ্যাক্সিলারেটরের একটি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, যা মিডওয়াইফারি সেবার মডেলগুলোকে বিস্তৃত করার একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ। ৩৪তম আইসিএম ত্রিবার্ষিক কংগ্রেস (লিসবন, ১৩-১৮ জুন ২০২৬) হলো বিশ্বের বৃহত্তম মিডওয়াইফ সমাবেশ। বাংলাদেশ সরকারের মিডওয়াইফারিসেবার কর্মসূচি ২০১০ সালে শুরু হয়, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ৩,০০০ মিডওয়াইফ পদ সৃষ্টির অঙ্গীকার করা হয়। তারপর থেকে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা এবং একটি সক্রিয় পেশাদার সমিতির ওপর ভিত্তি করে মিডওয়াইফারি সেবার একটি নিয়ন্ত্রিত পেশা গড়ে তুলেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬২টি সরকারি এবং ১১০টি বেসরকারি মিডওয়াইফারি কলেজ রয়েছে, যেখানে সম্মিলিতভাবে প্রতি বছর ৫,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। ইউএনএফপিএ এই কর্মসূচিকে শুরু থেকেই সমর্থন করে আসছে।Media contactVanes Pilav
Communications Officer, UNFPA Bangladesh
pilav@unfpa.orgAsma Akter
Media and Communication Officer
asma@unfpa.org
Communications Officer, UNFPA Bangladesh
pilav@unfpa.orgAsma Akter
Media and Communication Officer
asma@unfpa.org
1 এর 5
প্রেস রিলিজ
০৮ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশে নারী কৃষকদের ক্ষমতায়নে "আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬" এর উদ্বোধন ঘোষণা
বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয় বিগত ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল -এ অনুষ্ঠিত আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি (IACC) সভায় আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬ (IYWF 2026)-এর জাতীয় কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করে।কৃষি মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এই উদ্যোগে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), জাতিসংঘের রোমভিত্তিক অন্যান্য সংস্থা— ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (IFAD) এবং ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (WFP)—, সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, কূটনীতিক সমাজের প্রতিনিধিগণ, উন্নয়ন অংশীজন এবং সারা দেশের কৃষক প্রতিনিধিগণ একত্রিত হয়। এই উদ্বোধন বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং কৃষি রূপান্তরে নারী কৃষকদের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব ও IACC-এর চেয়ার রফিকুল ই মোহামেদ এবং বাংলাদেশে এফএও প্রতিনিধি ও IACC-এর সহ-সভাপতি জিয়াকুন শি।অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বছরব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রমের আলোচনার সূচনা হয়, যার লক্ষ্য নারী কৃষকদের সহায়তা, ক্ষমতায়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা, পাশাপাশি টেকসই ও খাদ্য-নিরাপদ সমাজ গঠনে তাদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা।জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ (UNGA) ২০২৬ সালকে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা টেকসই কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থায় নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানকে স্বীকৃতি দেয়। বৈশ্বিক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি, সম্পদে ন্যায্য প্রবেশাধিকার এবং নারী কৃষকদের ভূমিকার অধিক স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রফিকুল ই মোহামেদ সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়, জিয়াকুন শি, বাংলাদেশে এফএও প্রতিনিধি। এছাড়াও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মধ্যে ইফাদ, ডাব্লিউএফপি, ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাসমূহ, কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের মধ্যে নেদারল্যান্ডস রাজ্যের দূতাবাস, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণা পরামর্শক গ্রুপ, উন্নত পুষ্টির জন্য গ্লোবাল অ্যালায়েন্স (GAIN), সিভিল সোসাইটি সংগঠনসমূহ এবং সারা বাংলা কৃষক সোসাইটির মতো কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রফিকুল ই মোহামেদ, সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয় বলেন: “এটি শুধু উদযাপনের বছর নয়; এটি কর্মের বছর। এটি আমাদের দেশের প্রতিদিনের খাদ্য জোগানো লক্ষ লক্ষ নারীর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার, তাদের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের উন্নয়নে বিনিয়োগ করার আহ্বান। এটি নতুন প্রজন্মের তরুণীদের জন্যও একটি সুযোগ—যাতে তারা কৃষিকে শুধু শ্রম নয়, বরং উদ্যোক্তা হওয়া, মর্যাদা এবং নেতৃত্বের পথ হিসেবে দেখতে পারে।”তিনি আরও বলেন, “আসুন আমরা সবাই—সরকার, জাতিসংঘ সংস্থা, উন্নয়ন অংশীদার, সিভিল সোসাইটি এবং জনগণ—একসাথে কাজ করি, যাতে ২০২৬ সাল বাংলাদেশের নারী কৃষকদের জন্য একটি রূপান্তরের বছর হয়ে ওঠে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আজ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘোষণা করছি।” জিয়াকুন শি, বাংলাদেশে এফএও প্রতিনিধি বলেন “এফএও, রোমভিত্তিক অন্যান্য জাতিসংঘ সংস্থা—IFAD এবং WFP— এবং আমাদের উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে এই আন্তর্জাতিক বর্ষকে অর্থবহ ও কার্যকরী করে তুলতে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। এফএও বিভিন্ন উদ্ভাবনী পাইলট কর্মসূচির পরিকল্পনার মাধ্যমে ক্ষুদ্র নারী কৃষকদের ক্ষমতায়নের জন্য শক্তিশালী বিনিয়োগ কর্মসূচি গড়ে তুলবে, যা গ্রামীণ সম্প্রদায়ে দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে।”সারা বাংলা কৃষক সোসাইটির সভাপতি রীতা ব্রাম্ম বিভিন্ন সংস্থার উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন: “আমার গ্রামের সমবায়ের নেতৃত্ব দেওয়া থেকে শুরু করে সারা বাংলা কৃষক সোসাইটির সভাপতি হওয়া পর্যন্ত আমার যাত্রা বাংলাদেশে নারী কৃষকদের ক্রমবর্ধমান নেতৃত্বের প্রতিফলন। আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬-এর উদ্যোগগুলো আমাদের মতো নারীদের জন্য বিনিয়োগ, দক্ষতা এবং সুযোগের প্রবেশাধিকার বাড়াবে, যা আমাদের আরও শক্তিশালী ও সহনশীল কৃষি সম্প্রদায় গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”এফএও বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একযোগে কাজ চালিয়ে যাবে, যাতে একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃষি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়—এবং যাতে করে সংস্থাটির “ফোর বেটারস” ভিশন (উন্নত উৎপাদন, উন্নত পুষ্টি, উন্নত পরিবেশ এবং উন্নত জীবন) অর্জন নিশ্চিত হয়। IYWF ২০২৬-এর আওতায় এফএও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ঘোষণা করেছে:• দক্ষিণাঞ্চলে “গ্রিনরুটস ফার্ম ল্যাব ফর ফার্মিং উইমেন” নামে একটি পাইলট প্রকল্প গড়ে তোলা, যার লক্ষ্য নারী-নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলোকে পরিবেশবান্ধব করা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করা।• এফএও -এর হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড উদ্যোগের অধীনে একটি কৃষি নারী বিনিয়োগ ফোরাম গঠনের সম্ভাবনা যাচাই করা।• উত্তরাঞ্চলে “নারী কৃষক সম্মিলন” আয়োজন, যা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (DLS), মৎস্য অধিদপ্তর (DoF) এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতায় কৃষি মন্ত্রণালয় ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হবে।আন্তর্জাতিক নারী কৃষক বর্ষ ২০২৬-এর উদ্বোধন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা নারী কৃষকদের ভূমিকা স্বীকৃতি ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে তাদের অবদানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। For media inquiries and further information:Naila Fahmin RashaCommunication Specialistnaila.rasha@fao.org About FAO Bangladesh:https://www.facebook.com/FAOBangladeshhttps://www.fao.org/bangladesh/en/FAO Regional Office for Asia and the Pacifichttp://www.fao.org/asiapacific
1 এর 5
প্রেস রিলিজ
০৬ এপ্রিল ২০২৬
৩০ উপজেলায় ১২ লাখ শিশুকে সুরক্ষা দিতে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির সঙ্গে যৌথভাবে হাম-রুবেলার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে বাংলাদেশ
ঢাকা, ৫ এপ্রিল, ২০২৬- ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ও গ্যাভি, দ্যা ভ্যাকসিন অ্যালায়ন্সের সহায়তায় বাংলাদেশ সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রথমে, সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি শিশুকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।পরবর্তীতে, ধাপে ধাপে এই টিকাদান কর্মসূচি সারা দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও বাকি জেলা গুলোতে সম্প্রসারণ করা হবে।মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “বর্তমানে দেশে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এত বড় কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা প্রদান এবং দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ইউনিসেফের রিপ্রেজেন্টেটিভ মিস রানা ফ্লাওয়ার্সকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে, স্বাস্থ্যও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকেও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই”।জরুরি এই টিকাদান কর্মসূচিতে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় টিকা না পাওয়া এবং গুরুতর অসুস্থতা ও জটিলতা হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ও কক্সবাজারে ঘনবসতিপূর্ণ ও উচ্চ ঝুঁকির এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কঠোর প্রচেষ্টা চালানো হবে।দ্রুত টিকাদান এবং রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় জোরালো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংক্রমণ বাড়তে থাকবে, তাতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে এবং শিশুস্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতির ঝুঁকি তৈরি করবে। এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি নিয়মিত টিকাদান প্রচেষ্টার সম্পূরক হিসেবে কাজ করবে এবং এটি হলো টিকাদানের লক্ষ্যপূরণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণ প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরির একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ বিশেষ।বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “শিশুদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে টিকা একটি মৌলিক উপাদান।বাংলাদেশ জুড়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে হাজার হাজার শিশু, বিশেষ করে ছোট শিশুও সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় থাকা শিশুরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ায় ইউনিসেফ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এভাবে সংক্রমণ ফিরে আসাটা গুরুতর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির (ইমিউনিটি গ্যাপ) দিকটি তুলে ধরছে, বিশেষকরে যেসব শিশুরা একেবারেই কোনো টিকা পায়নি (জিরো-ডোজ) অথবা টিকার আংশিক ডোজ পেয়েছে এমন শিশুদের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি নয় মাসের কমবয়সী শিশু যারা এখনো নিয়মিত টিকাদানের জন্য উপযুক্ত নয়, তাদেরও সংক্রমিত হওয়ার বিশয়টা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।”রানা ফ্লাওয়ার্স আরও বলেন, “যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে, তাদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং বাংলাদেশ সরকার এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে যে প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে তাতে সহায়তা প্রদান করছি। সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সংক্রমণের এই ফিরে আসাটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রতিটি শিশু যেন টিকার আওতায় আসে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করা যায়এবং এই প্রতিরোধযোগ্য রোগথেকে বাংলাদেশের শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে ইউনিসেফ সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।”দাতাদের বিশেষ করে গ্যাভিকে ধন্যবাদ।ইউনিসেফ টিকা কেনা ও বিতরণ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জনসচেতনতা তৈরি এবং বাবা-মা ও অভিভাবকেরা (কেয়ারগিভার) যাতে অবগত থাকেন ও তাদের সন্তানদের টিকা দেন সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ইউনিসেফ। এছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার শিশু, উপেক্ষিত থেকে যাওয়া শিশু ও সমস্যা সঙ্কুল এলাকার শিশুদের টিকাদান নিশ্চিতে সম্মুখভাগের স্বাস্থ্যকর্মী ও অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে ইউনিসেফ।বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচ) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ বলেন, “সুনির্দিষ্ট ও সময়োচিত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।” তিনি বলেন, “দেশজুড়ে সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর উচ্চ ঝুঁকির এলাকাগুলোর ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে গৃহীত এই টিকাদান কর্মসূচি আরও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঠেকানো এবং এই প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পেছনে যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার (ইমিউনিটি গ্যাপ) ঘাটতি রয়েছে তা দূর করতে সহায়তা করবে। হাম-রুবেলার টিকা নিরাপদ ও কার্যকর এবং তা বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি শিশুকে সুরক্ষিত করেছে- দ্রুত সংক্রমিত হওয়া এই রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটাই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।”ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ আরও বলেন, “বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সব বাবা-মাও অভিভাবকদের (কেয়ারগিভার) প্রতি তাদের সন্তানদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দেবার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে এবং বাংলাদেশজুড়ে প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ও অংশীজনদের সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।”বাংলাদেশে গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের সিনিয়র কান্ট্রি ম্যানেজার ডির্ক গেহল বলেন, “এইপ্রাদুর্ভাবে শিশুদের প্রাণহানি একটি মর্মান্তিক বিষয়কে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, রোগ প্রতিরোধে ঘাটতি থাকলে হাম দ্রুতই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্যও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথভাবে গ্যাভি ইতিমধ্যে দেশে থাকা হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়তা করছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের সর্বোচ্চ কার্যকর উপায়ে একসঙ্গে কাজ করা এখন অত্যন্ত জরুরি।”বাংলাদেশে উচ্চ হারে শিশুদের টিকাদানের একটি সফল ইতিহাস রয়েছে।কিন্তু সামান্য বিঘ্নও, সময়ের সাথে সাথে পর্যায়ক্রমে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ঘাটতি (ইমিউনিটিগ্যাপ) দেখা দেওয়ার কারণ হতে পারে। বর্তমানে যেভাবে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তা সাধারণত কোনো একক কারণে নয়, বরং এ ধরনের ঘাটতিগুলোর সামগ্রিক ফলাফল। টিকা সংগ্রহের প্রধানসংস্থা হিসেবে ইউনিসেফ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, যাতে সময়মতো মানসম্মত টিকা পাওয়াটা নিশ্চিত করা যায় এবং চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সরবরাহ দ্রুততর করা যায়।উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত রোগীর চাপ, রোগীদের আলাদা রাখার (আইসোলেশন) সক্ষমতার ঘাটতি এবং রেফারেল ও চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও জটিলতা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কক্সবাজারের মতন উচ্চ জনঘনত্ব এলাকায় মানুষের সার্বক্ষনিক চলাচলের কারণে এই চ্যালেঞ্জগুলো আরও তীব্র হয়েছে, ফলে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।২০০৭ সাল থেকে গ্যাভি ৫৭ টি নিম্ন আয়ের দেশে নিয়মিত টিকাদানকর্মসূচি, প্রতিরোধমূলক ক্যাম্পেইন এবং প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা কর্মসূচির মাধ্যমে হাম ও হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমে সহায়তা দিতে ২ দশমিক২ বিলিয়ন (২২০ কোটি) মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে (যার মধ্যে গত পাঁচ বছরেই ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার- ১১০ কোটি ডলার রয়েছে)। এর মাধ্যমে ১ দশমিক ৩ বিলিয়নেরও (১৩০কোটি) বেশি শিশুকে টিকাদানসম্ভব হয়েছে।২০২৪ সালে গ্যাভি হাম প্রতিরোধে অন্যতম বৃহত্তম উদ্যোগকে সমর্থন দেয়, যেখানে ২৪ টি দেশে ক্যাচ-আপ (নিয়মিত টিকানা পাওয়া শিশুদের টিকাদান) ও ফলো-আপ ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৬ কোটি ২০ লাখেরও (৬২ মিলিয়ন) বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি পাঁচটি দেশে প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সহায়তা দিয়ে প্রায় ৬৮ লাখ (৬দশমিক ৮ মিলিয়ন) শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।গ্যাভি লিপ রিফর্ম (সংস্কার) এজেন্ডার আওতায়, দ্যা আল্যায়েন্স ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন প্রদান এবং বৃহৎ পরিসরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি দূর করতে বিভিন্ন দেশের সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত প্রচেষ্টাগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আরও বেশি গুরুত্ব দেবে।বাংলাদেশে সকল শিশু আজ ও ভবিষ্যতে যেন সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করতে ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তাদের অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে টিকাদান ও শিশুস্বাস্থ্য সেবায় ধারাবাহিক ও টেকসই বিনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
1 এর 5
প্রেস রিলিজ
১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
নির্বাচনে নারীদের নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ
আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে নির্বাচনে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অর্থবহ অংশগ্রহণ সবার মৌলিক অধিকার। এর মধ্যে সকল নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নারী, ভিন্ন লিঙ্গ পরিচয়ের মানুষ এবং সমাজে যাঁরা বেশি বাধা, বৈষম্য বা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকিতে থাকেন, তাঁদের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত।নির্বাচনের আগে, বিভিন্ন নারী সংগঠন ও নাগরিক সমাজ নারী প্রার্থী ও ভোটারদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হয়রানি, বিশেষ করে অনলাইন সহিংসতা, নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে, সে বিষয়ে জাতিসংঘ সচেতন । রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক এবং মানবাধিকার রক্ষাকারী সহ জনজীবনে কর্মরত নারীরা সাইবার বুলিং, ডিপফেক, পরিকল্পিত হয়রানি এবং ছবি বিকৃত করে অপব্যবহারসহ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবর্তিত বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্টের ঘটনা বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন।জাতিসংঘ সকল অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে নারীদের অর্থপূর্ণ প্রতিনিধিত্ব ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করে আসছে এবং নারীদের নির্বাচনী অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান করছে। নারীসহ সকল ভোটার যেন ভয়ভীতি, বৈষম্য, অনলাইন নির্যাতন বা প্রতিশোধের আশঙ্কা ছাড়াই প্রার্থী ও ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।জাতিসংঘ সব অংশীদার, বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতা, তাদের দল ও সমর্থকদের আহ্বান জানাচ্ছে যেন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নারীর প্রতি কোনো প্রকার হয়রানি, সহিংসতা বা ভয়ভীতি দেখানো না হয়। এটি নারী প্রার্থী ও ভোটারদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য, যাদের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য। আমরা বিশ্বাস করি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং প্রতিটি ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। সবার নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সবসময় সরকারের পাশে থেকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
1 এর 5
সাম্প্রতিক প্রকাশনা
1 / 11
প্রকাশনা
১১ অক্টোবর ২০২৩
1 / 11